ওঙ্কার ডেস্ক: তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রশাসনিক ভূমিকা, বেআইনি নির্মাণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম গাফিলতি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় একের পর এক অবৈধ নির্মাণ, বেআইনি কারখানা এবং নিয়মবহির্ভূত বাণিজ্যিক কার্যকলাপ প্রশাসনের নীরব মদতেই চলছে, যার ফলেই বারবার সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।
তিলজলার তপসিয়া সংলগ্ন এলাকায় বহুতল ভবনের ভিতরে চলা কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা বাড়তেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন, পুরসভা এবং দমকল বিভাগের একাংশের গাফিলতির কারণেই এই ধরনের বিপজ্জনক অবৈধ নির্মাণ বছরের পর বছর ধরে বহাল তবিয়তে চলছে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র ঘটনার পর দায় এড়াতে তদন্তের আশ্বাস দিলে হবে না, বরং অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব বহুতল বা কারখানার বৈধ নকশা নেই, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বা বেআইনিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো উচিত। একইসঙ্গে পুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই বিপজ্জনক নির্মাণগুলি রমরমিয়ে চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বেআইনি নির্মাণ ও শিল্প ইউনিটগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও অভিযোগ করেছেন, বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিলজলার ঘটনায় মৃতদের পরিবার ন্যায়বিচার এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি তুলেছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।