ওঙ্কার ডেস্ক: নবম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বৃহৎ যোগাভ্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়। ভোর থেকেই রেড রোড ও সংলগ্ন এলাকায় মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের নানা জেলা থেকেও বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় আসেন।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন। শুভেন্দুর দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন এবং রাজ্যের অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্পোন্নয়নে কেন্দ্রের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য সচেতনতার কর্মসূচি নয়, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। যোগের মাধ্যমে শরীর ও মনের সুস্থতা যেমন বজায় রাখা সম্ভব, তেমনই সমাজে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলাও সম্ভব। এই প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বাংলার উন্নয়নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, আবাসন, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সহায়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সুসমন্বয় প্রয়োজন।
রেড রোডের অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজিরবিহীন। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়। গোটা এলাকা নজরদারির আওতায় রাখা হয় এবং অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের তরফে আগে থেকেই বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করে সাধারণ মানুষের অসুবিধা কমানোর চেষ্টা করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা একযোগে যোগাভ্যাস করেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত জনতার সঙ্গে যোগাসন করেন এবং যোগের গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে যোগ একটি কার্যকর উপায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যোগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।