ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফেরার সম্ভাবনাকে ঘিরে লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে শহরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাঁর ছবি-সহ আলোকিত বিশাল হোর্ডিং নজর কেড়েছে। রাতের অন্ধকারে আলো ঝলমলে এই হোর্ডিং শহরবাসীর কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে। এই হোর্ডিংয়ের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে তসলিমা নাসরিন নিজেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “বাক স্বাধীনতার জয়।” লেখিকার সম্ভাব্য কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক এবং আগ্রহ দুই-ই তৈরি হয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে।
আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদবিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তসলিমা নাসরিনের। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে তিনি কবিতা পাঠ করবেন। পাশাপাশি তাঁর কবিতার উপর ভিত্তি করে নির্মিত কয়েকটি গানও পরিবেশিত হবে। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচারের উদ্দেশ্যে বড় বড় হোর্ডিং লাগানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন মহলে এই অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে সাহিত্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ অতীতের বিতর্কের প্রসঙ্গও সামনে আনছেন।
তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকেই। ২০০৭ সালে তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর সেই লেখনির কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে ব্যপক অশান্তির সৃষ্টি হয়। তৎকালীন বাম সরকার সেই অশান্তির কারণ হিসাবে লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে কলকাতা ছাড়তে হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কলকাতায় ফিরতে পারেননি। প্রায় উনিশ বছর পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তাই সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।