ওঙ্কার ডেস্ক: তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ের উদ্ধারকাজ আপাতত শেষ করেছে উদ্ধারকারী বাহিনী। শনিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের কনস্ট্রাকটিং বিভাগের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশ, নির্মাণ সামগ্রীর গুণমান, কংক্রিটের অবস্থা, লোহার বিম ও স্তম্ভের কাঠামো এবং নির্মাণের সামগ্রিক পদ্ধতি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করাই এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নথি, নকশা ও কাজের অগ্রগতির বিষয়েও প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বোঝা যাবে নির্মাণে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, নকশাগত সমস্যা অথবা অতিরিক্ত চাপের কারণে ভবনটি ভেঙে পড়েছিল কি না।
অধ্যাপক বিশ্বাসের মতে, কেবল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। সমস্ত নমুনার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, নির্মাণ নকশার মূল্যায়ন এবং প্রকৌশলগত বিশ্লেষণের পরই একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্ট তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতের তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, তারাতলায় নির্মীয়মাণ বহুতল ভবনের একটি বড় অংশ আচমকাই ভেঙে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একাধিক শ্রমিক গুরুতর জখম হন। দুর্ঘটনার পর টানা উদ্ধার অভিযানে দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ, সেনাবাহিনী-সহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই নির্মাণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরকারি নজরদারি এবং নির্মাণ সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও প্রযুক্তিগত তদন্তের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে ভবন ধসের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।