ওঙ্কার ডেস্ক: আলিপুর চিড়িয়াখানার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও, ভেতরে ফুঁসছিল অসন্তোষ। ঐতিহাসিক দিনে ডাকটিকিট প্রকাশ, ডিজিটাল লাইব্রেরি উদ্বোধনসহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও একাংশ কর্মী স্পষ্টভাবে বয়কট করলেন খাওয়াদাওয়া। তাঁদের অভিযোগ, নতুন অধিকর্তা তৃপ্তি শাহ কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন এবং অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দেখানো হয়নি।
বহুদিন ধরেই নিচুতলার কর্মীরা অসন্তুষ্ট ছিলেন। পশুপাখির নিয়মিত পরিচর্যা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তাঁদের উপরেই বর্তায়, কিন্তু অনুষ্ঠান আয়োজনে সেই কর্মীদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। এমনকি দীর্ঘক্ষণ কাজ করানোর পরও সম্মানজনক ব্যবহার করা হয়নি। কর্মীরা মনে করেন, এই বিশেষ দিনে তাঁদেরও যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত ছিল।
ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁরা বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হলেও খাওয়াদাওয়া থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে, যা উদ্দেশ্যমূলক অপমান ছাড়া কিছু নয়। কর্মীদের বক্তব্য, তাঁরা ৩৬৫ দিন চিড়িয়াখানার প্রাণীদের দেখাশোনার কাজে যুক্ত থাকেন, অথচ বিশেষ দিনে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, কর্তৃপক্ষ এই ধরনের অবিচার বন্ধ করুক এবং নতুন অধিকর্তা তাঁদের সঙ্গে ব্যবহার পরিবর্তন করুন।
অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের একটি অংশ মনে করছে, কর্মীদের এই বয়কট কর্মসূচি অসন্তোষের প্রকাশ হলেও এর ফলে প্রাণী পরিচর্যায় কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না। তবে দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা। ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের গম্ভীর মুহূর্তে এই বিক্ষোভ চিড়িয়াখানার অন্দরের টানাপোড়েনকে সামনে এনে দিয়েছে।
