ওঙ্কার ডেস্ক: নেপালে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। বিক্ষোভ ও তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের জেরে ওলি সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই রাজনৈতিক মহল জুড়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। এর মধ্যেই সামনে এসেছে ভারতবিরোধী সুর। নেপালের একাংশের রাজনৈতিক নেতা ও জনতার বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে অভিযোগ দেশের এই অশান্ত পরিস্থিতির নেপথ্যে ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশ নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। ওলির ক্ষমতা ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরাসরি ভারতকে দায়ী করতে শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, দিল্লি নেপালের অভ্যন্তরীণ সংকটে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি, বিক্ষোভে সরব তরুণ প্রজন্মের কিছু অংশ সামাজিক মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। তাদের মতে, দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি বহিরাগত প্রভাবও বর্তমান অস্থিরতার অন্যতম কারণ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওলি ক্ষমতায় থাকাকালীন চীন ঘনিষ্ঠ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে দিল্লির পরিবর্তে বেজিং যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজনৈতিক মহলের দাবি, সেই পদক্ষেপের ফলে ভারত-নেপাল সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। ফলে ওলির পদত্যাগের পর যখন দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে, তখন ভারতকেও নানা মহল থেকে নিশানা করা হচ্ছে।
এদিকে দিল্লির কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতি নিয়ে কড়া নজর রাখছে। সরকারি পর্যায়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও অনানুষ্ঠানিক মহলে বলা হচ্ছে, নেপালের এই অভ্যন্তরীণ গোলযোগে ভারতের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। দিল্লি বরাবরই নেপালের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এসেছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নেপালে অশান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি নেপাল সেনার শিবপুরি ব্যারাকে আছেন। সেখান থেকে নিজের দলের অনান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় তিনি আর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, অযোধ্যা নিয়ে কথা বলার জন্য আজ তাঁর এই অবস্থা। তাঁর কথায়, “রামায়নের ভগবান রামের জন্ম ভারতের উত্তরপ্রদেশে নয় নেপালের বীড়গঞ্জের পশ্চিমে। ভারত নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে এক নতুন অযোধ্যা তৈরি করেছে”। অলি এবং তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন দিল্লির বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্যই গদি থেকে সরতে বাধ্য হয়েছেন কেপি শর্মা অলি।
নেপালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও জনবিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতবিরোধী সুর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে চলা সমালোচনা এবং জনতার একাংশের বক্তব্যে ভারতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বারবার। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছে কূটনৈতিক মহল।
