ওঙ্কার ডেস্ক: এক বছর আগে ঠিক এই দিনে ভয়ঙ্কর ধসে চূরালমালা, মুন্ডাক্কাই সহ চারটি গ্রাম কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৯৮ জন, এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ৪০ জনেরও বেশি। সেই বিভীষিকার বর্ষপূর্তিতে যেন পুরো অঞ্চল স্তব্ধ হয়ে ছিল। স্থানীয় পঞ্চায়েত কার্যালয়ে আয়োজিত হয় সর্বধর্ম প্রার্থনা সভা। অংশ নেন নানা ধর্মের ধর্মগুরু ও বাসিন্দারা। গণকবরে দাঁড়িয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন বহু মানুষ, আর কেরালা পুলিশ শহিদদের উদ্দেশে গার্ড অফ অনার দেয়।
এক বছরে ক্ষতচিহ্ন মুছে যায়নি। সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে ১৪৫টি বাড়ি, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭০টি। বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে আরও ২৪০টি বাড়িকে, আর ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ১৮৩টি গৃহ। আশ্রয়হীন হয়ে পড়া হাজারেরও বেশি মানুষের জন্য তৈরি হচ্ছে দুটি পুনর্বাসন টাউনশিপ, যেখানকার নির্মাণকাজ এখনও শেষ হয়নি। সেই নতুন ঘরে ফেরার স্বপ্নে দিন গুনছেন ৪০২টি পরিবার, আর দ্বিতীয় তালিকায় নাম উঠবে কি না, সেই উদ্বেগে কাটছে আরও ৫০টি পরিবারের প্রতিটি দিন।
এই যন্ত্রণাবহ দিনেই ওয়ানাড়ের সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী একটি আবেগঘন বার্তা দেন তাঁর কেন্দ্রবাসীদের উদ্দেশে। লেখেন, চূরালমালা-মুন্ডাক্কাই ধসের এই ব্যথাবহ বর্ষপূর্তিতে তিনি দিল্লিতে সংসদের কাজে ব্যস্ত থাকলেও, মন রয়েছে ওয়ানাড়ের মাটিতেই। যাঁদের হারানো গিয়েছে, তাঁদের স্মৃতি যেন সাহস আর শান্তি এনে দেয়। জানান, শুধু আজ নয়, তিনি সব সময় তাঁদের পাশে থাকবেন। তাঁর এই বার্তায় আবারও স্মরণে উঠে আসে সেই সময়ের দৃশ্য, যখন বিপর্যয়ের পরপরই তিনি ও তাঁর ভাই রাহুল গান্ধী দুর্গত এলাকায় পৌঁছে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন রাহুল গান্ধী ওয়ানাড়ের সাংসদ পদ ছেড়ে রায়বরেলি ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্যোগের গুরুত্ব বুঝে একসঙ্গে ছুটে এসেছিলেন ভাই-বোন।
এখন পর্যন্ত দুটি পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ চলছে মেপ্পাডি ও কালপেট্টা এলাকায়। হাইকোর্ট ইতিমধ্যে দু’টি এস্টেট অধিগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে একটিতে ৬৫ একর, অন্যটিতে প্রায় ৭৯ একর জমি। এই প্রকল্পগুলি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কেরালার রাজস্বমন্ত্রী কে. রাজন জানিয়েছেন, চারটি জোনে জোরকদমে নির্মাণ চলছে এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ঘর হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বছরে নতুন ঘরে পা রাখতে পারবেন উপভোক্তারা। তবে রাজ্য সরকারের এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আশঙ্কার কণ্ঠও উঠে আসছে। কংগ্রেস বিধায়ক টি. সিদ্দিকের অভিযোগ, সরকার খুব ধীরে কাজ করছে, প্রায় কচ্ছপগতিতে, এবং সবটাই ভোটমুখী রাজনীতি। তিনি বলেন, সরকারের এই মনোভাব অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, কারণ মানুষের দুর্ভোগকে তারা রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছে।
এই ঘর হারানো মানুষদের কাছে ৩০ জুলাই শুধুই একটি দিন নয়। এই দিন তাদের কাছে ভয়, শোক আর হাহাকারের প্রতীক। এক বছর পেরিয়ে গেলেও বহু পরিবার এখনও তাঁবুতে, স্কুলের শরণকেন্দ্রে, কিংবা আত্মীয়দের বাড়িতে কোনওভাবে বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন। প্রকল্পের ঘোষণায় আশ্বাস মিললেও বাস্তবের ছবি এখনও বহু দূরের।
