ওঙ্কার ডেস্ক: বিশ্বের নানান দেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইচ্ছেমত শুল্ক আরোপকে ইতিমধ্যেই বেআইনি তকমা দিয়েছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্পের এই বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী নীল কাটিয়াল। আর তাঁর প্রশ্নের জেরেই আমেরিকান প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে সেদেশের সর্বোচ্চ আদালত।
দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প। সেই শুল্কবাণের আঁচ এসে পরেছিল ভারতের উপরও। শুল্ক এবং জরিমানা নিয়ে ভারতের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
নীল কুমার কাটিয়াল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম খ্যাতনামা সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে শিকাগোতে জন্ম তাঁর। শিক্ষাজীবনে ডার্টমাউথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ইয়েল ল’ স্কুল থেকে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ারের অধীনে ক্লার্ক হিসেবেও কাজ করেছেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত সলিসিটার জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সরকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত একাধিক শুল্ক বা ট্যারিফকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি তুলে ধরেন কাটিয়াল। তাঁর দাবি ছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে বিস্তৃত শুল্ক আরোপ করেছেন, তা সংবিধানের নির্ধারিত ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করে। কাটিয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, শুল্ক আরোপ কার্যত কর বসানোর সমান এবং সংবিধান অনুসারে কর আরোপের একমাত্র অধিকার কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। সেই কারণে নির্বাহী শাখা একতরফাভাবে এই ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষে দাঁড়িয়ে কাটিয়াল যুক্তি দেন, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আমেরিকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করেছে। সুপ্রিম কোর্টে তাঁর উপস্থাপিত যুক্তি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ব্যাপক সাড়া ফেলে। শেষ পর্যন্ত আদালত প্রেসিডেন্টের আরোপিত বেশ কিছু শুল্ক কার্যক্রমকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। এই রায়কে অনেকেই নির্বাহী ক্ষমতার উপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হিসেবে দেখছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিল। একই সঙ্গে এটি মার্কিন সংবিধানের ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ ব্যবস্থাকে আরও একবার শক্তিশালী করল।
নীল কাটিয়ালের দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তিনি পঞ্চাশেরও বেশি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরোধিতায় এটিই প্রথম নয়; এর আগেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর এই সাম্প্রতিক সাফল্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান প্রভাবের দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
