ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর অবসরের পর সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ। কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর নিয়োগে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ৩০ জুন থেকে তিনি দেশের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
বর্তমানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ পদে কর্মরত। দীর্ঘ প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালে আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন সংবেদনশীল ও কৌশলগত এলাকায় কাজ করেছেন। সামরিক নেতৃত্ব, পরিকল্পনা এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ বলে মনে করা হয়।
কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি একটি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট, একটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং সন্ত্রাসবাদ দমন অভিযানে নিয়োজিত বিশেষ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী বিভিন্ন অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি কর্পস কমান্ডার এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডের প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
সেনা সদর দপ্তরে কৌশলগত পরিকল্পনা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদেও কাজ করেছেন ধীরাজ শেঠ। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তর, যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।
শিক্ষাগত ও পেশাগত দক্ষতার ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী ধীরাজ শেঠ দেশের পাশাপাশি বিদেশেরও একাধিক উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। সামরিক কৌশল, নেতৃত্ব এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান তাঁকে সেনাবাহিনীর শীর্ষপদে পৌঁছে দিয়েছে।
নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সীমান্ত সুরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক কৌশলগত প্রেক্ষাপটে তাঁর অভিজ্ঞতা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও কার্যকর ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।