ওঙ্কার ডেস্ক: পণের দাবিতে এক গৃহবধূর উপর অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের কল্যাণে। ওই বধূর মাথা মুড়িয়ে দিয়ে অনাহারে রেখে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় উলহাসনগরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যাচারিত বধূর নাম আফসানা। তাঁর অভিযোগ, তিনি যখন গর্ভবতী ছিলেন সেই সময় তাঁকে মারধর করা হতো প্রায়শই। এমনকি খাবার দেওয়া হয়নি তাঁকে, গায়ে গরম জল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জোর করে তাঁর মাথা মুড়িয়ে দেয় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পুলিশ তাঁর স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আফসানা উলহাসনগরের বাসিন্দা। কল্যাণের ওয়ালধুনি এলাকার বাসিন্দা সমীর আনসারির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের আগেই কনের পরিবার বরপক্ষকে আর্থিক অনটন এবং যৌতুক দিতে পারবেন না এমনটি জানিয়েছিলেন। কিন্তু আফসানার অভিযোগ, বিয়ের পরেই তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন টাকা ও অন্যান্য সামগ্রীর জন্য চাপ দিতে শুরু করে। তিনি দাবি করেন, গর্ভাবস্থার সময়ও নির্যাতন অব্যাহত ছিল। তাঁর স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর ও ননদ তাঁকে প্রায়শই মারধর করতেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অবশেষে শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার থেকে বাঁচতে আফসানা কোনও রকমে বাড়ি থেকে পালিয়ে তাঁর বোনের বাড়িতে যান। সেখানে গোটা ঘটনার কথা জানান। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে উলহাসনগরের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে মহাত্মা ফুলে থানার সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর বালিরাম পরদেশি জানান, ওই মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করার খবর পেয়ে পুলিশ একটি দল পাঠিয়ে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’-র সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।