ওঙ্কার ডেস্ক: দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করলেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা-এর সভাপতি অনীত থাপা। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-র চিফ এক্সিকিউটিভ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন তিনি। এই ঘোষণার পর থেকেই পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
জিটিএ-র প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাহাড়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে এই সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের জিটিএ নির্বাচনে বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজিপিএম। এরপর চিফ এক্সিকিউটিভ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অনীত থাপা। তাঁর নেতৃত্বে পাহাড়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে জিটিএ-র ক্ষমতা, কার্যকারিতা এবং স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক চলছিল।
ইস্তফার সিদ্ধান্ত জানিয়ে অনীত থাপা বলেন, পাহাড়ের মানুষের স্বার্থ, পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তাই বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন পথে এগোনোর প্রয়োজন অনুভব করেছেন তিনি। এই ঘোষণার পর বিজিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একাংশের মতে, এটি পাহাড়ের দাবি-দাওয়া নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, জিটিএ-র সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন অনীত থাপা।
পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি এবং বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রশ্ন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অনীত থাপার ইস্তফা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এখন নজর রয়েছে, জিটিএ-র নেতৃত্বে পরবর্তী সময়ে কে আসবেন এবং অনীত থাপার এই সিদ্ধান্ত পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে পাহাড়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ভবিষ্যৎ আলোচনাতেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ সমগ্র পাহাড় অঞ্চলে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে।