ওঙ্কার ডেস্ক: হটাৎ মোবাইল ফোন জোরে কেঁপে ওঠে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে জরুরি বার্তা? মুহূর্তের জন্য থমকে যায় কথোপকথন, মিটিং বা দৈনন্দিন কাজ। অনেকেই ভাবেন, হয়তো বড় কোনও বিপর্যয়ের খবর এসেছে। কিন্তু বার্তাটি খুলে দেখা যায়— বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা বা আবহাওয়ার পূর্বাভাস। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কখনও অফিস চলাকালীন, কখনও গভীর রাতে, আবার কখনও আকাশ একেবারে স্বাভাবিক থাকলেও পৌঁছে যাচ্ছে এই বার্তা। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা জীবনহানির ঝুঁকির মতো পরিস্থিতির জন্য তৈরি জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা কি সাধারণ আবহাওয়ার বার্তার ক্ষেত্রেও একইভাবে ব্যবহার করা উচিত? কিন্তু সব ক্ষেত্রেই এই সমস্যা সমাধানের এই একটাই পথ থাকতে পারে। ভারতের দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করেছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDMA), টেলিকম দফতর (DoT) এবং সি-ডট (C-DOT)। এর মূল প্ল্যাটফর্ম ‘সচেত’, যা দেশের সমন্বিত সতর্কতা নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি ‘সেল ব্রডকাস্ট’ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় থাকা সব মোবাইল ফোনে একসঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠানো যায়। এসএমএসের মতো ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করতে হয় না। ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বজ্রপাত, সুনামি বা শিল্পাঞ্চলের দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই সমস্যা এই সফটওয়্যার –এ নেই আছে এর ব্যবহারে। সাম্প্রতিক অনেক সতর্কবার্তাই সরাসরি দুর্যোগের সঙ্গে যুক্ত নয়, বরং আবহাওয়ার সাধারণ পূর্বাভাস। অথচ সেগুলিও একই ধরনের উচ্চমাত্রার শব্দ ও জরুরি গুরুত্ব নিয়ে মানুষের ফোনে পৌঁছচ্ছে। এর ফলে তৈরি হচ্ছে ‘অ্যালার্ট ফ্যাটিগ’ বা সতর্কবার্তাজনিত ক্লান্তি। অর্থাৎ মানুষ যখন বারবার একই ধরনের সতর্কবার্তা পেতে থাকে, তখন ধীরে ধীরে সেগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করে দেয়। পরিবেশবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ দীক্ষু সি কুকরেজার মতে, কোনও সতর্কতা ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করে মানুষ সেই বার্তাকে কতটা বিশ্বাস করছে তার উপর। তাঁর কথায়, “জরুরি বিষয়টি যদি রোজকার ব্যাপার হয়ে যায়, তাহলে তার প্রভাব কমতে থাকে। প্রযুক্তির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বার্তার গুরুত্বের সঙ্গে ঝুঁকির মাত্রার সামঞ্জস্য রাখা।” আগামী দিনে এই প্রযুক্তি আদৌ থাকবে কিনা সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।