ওংকার ডেস্ক: আগামী দিনে এই ফলতা বিধানসভা মডেল বিধানসভাতে পরিণত হবে। আগের সরকারের শাসকের আইন চলবে না চলবে আইনের শাসন। ফলতার সভা থেকে এইভাবেই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রসঙ্গত, তৃণমূল আমলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের নজরকাড়া কেন্দ্র ছিল এই ফলতা। শুধু তাই নয়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেল চলত এই বিধানসভা কেন্দ্রে। ওই এলাকার বেতাজ বাদশা ছিলেন জাহাঙ্গীর খান। ভোটের আগে সর্বসমক্ষে বলেছিলেন ‘আমার নাম পুস্পা, আমি ঝুঁকবো না’। কিন্তু বিধানসভা ভোটের কিছুদিন আগেই ভোটের মাঠ থেকে সরে আসেন তিনি। এরপরই ঘটে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয় পুস্পাকে। হাফ প্যান্ট পড়ে সারা এলাকা ঘোরায় পুলিশ।
ফলতায় এসইজেড শিল্পতালুক রয়েছে। সেই শিল্পতালুককে আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বন্দরভিত্তিক প্রোগ্রামের পরিকল্পনা করা হবে। সেই ঘোষণা করেছেন তিনি। গ্রামীণ হাসপাতালের পরিকাঠামোও আরও উন্নত করা হবে। গ্রামীণ হাসপাতালকে ১০০ বেডে উন্নীত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ডাক্তারও থাকবেন। আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী থাকলে হাসপাতালে। শুধু তাই নয়, এলাকায় জনোষধী কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সেই বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ফলতায় মহিলা কলেজ ও ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন তৈরির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। ফলতা থানাকেও আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। মহিলাদের আলাদা হেল্পডেস্কও থাকবে বলে এদিন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পাশাপাশি তিনি জানান, ইতিমধ্যেই এক কোটি পাঁচ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। যেভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডারে দুর্নীতি হয়েছে সেই কথা মাথায় রেখে প্রতিটি আবেদনকে যথাযথভাবে যাচাই করে পোর্টালে আপলোড করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী পয়লা জুলাই অন্নপূর্ণা যোজনার জুন মাসের ৩০০০ টাকা করে উপভোক্তরা পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন যাঁরা সরকারি ভ্যাকসিন নেননি তাঁদের এই সুযোগ দেওয়া হবে না। বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করলে অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা পাওয়া যাবে না বলে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে তা নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। সাফ জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য বোর্ডের অনুমোদন প্রাপ্ত বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করলেও সেই পরিবার সরকারি সুবিধা পাবে। এদিন মঞ্চ থেকেই ফলতা বিধানসভাকে ‘মডেল অ্যাসেম্বলি’ করার কথা শোনা যায় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মুখে। ফলতায় স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি মহিলা কলেজ ও ফায়ার ব্রিগেড তৈরির কথা বলেন তিনি। প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য বিশেষ হেল্প ডেস্ক তৈরি এবং আরও মহিলা পুলিশ নিয়োগের কথাও বলেন তিনি। চলতি বছর ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার রেকর্ড ভোটে জয়লাভের জন্য মুখ্যমন্ত্রী সকলকে ধন্যবাদ দেন। এরপরই নাম না করে ফলতার ‘পুষ্পা’কে গ্রেফতারের পর থেকে যেভাবে থানায় হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে উত্থাপন করে পুলিশ এবং জেলাশাসককে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু বলেন, ‘অভিযুক্তদের এমন শিক্ষা দিন যাতে কেউ পুলিশ কিংবা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ করার সাহস না দেখাতে পারে।’ যাঁরা হামলা করেছেন তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা নিলামে চড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। একদিকে যেমন পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং যোগ দিবসে সকলকে অংশ নেওয়ার কথা শোনা যায়, আবার অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের অংশীদার হতেও ফলতাবাসীকে অনুরোধ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, জনকল্যাণ শিবির থেকে যে চুয়ান্নটি প্রকল্পের সুবিধা দেয়া হচ্ছে তার মধ্যে আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্ত করা যাচ্ছে। আখেরে এতে সাধারণ মানুষেরই লাভ হবে। এদিন আমফানের সময় টাকা নয়ছয় থেকে শুরু করে আবাস যোজনা প্রকল্পে বাংলার বাড়ি নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে তার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা অভিযান যেমন চলছে সেভাবেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা তথা সুন্দরবনের সৌন্দর্যায়নের দিকেও তাঁর লক্ষ্য রয়েছে। এই সরকার সর্বত্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।