ওঙ্কার ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ১৫ বছরের রাজত্বের পতন। বর্তমানে ছিন্নভিন্ন তৃণমূল। ২৯৪ আসনের মধ্যে ৮০টি জোড়াফুল শিবিরের দখলে থাকলেও বেশির ভাগ বিধায়কই বিদ্রোহী শিবিরে। অর্থাৎ ‘ভালো তৃণমূলে ৬৫ বিধায়ক। লোকসভা, রাজ্যসভাতেও অচলাবস্থা। তৃণমূলের অন্দরে এই তীব্র টানাপোড়েন ও বিদ্রোহের আবহে এবার জেলাস্তরে সাংগঠনিক রদবদল করলেন তৃণমূল নেত্রী। বিভিন্ন জেলা ও সাংগঠনিক স্তরে সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদে ঠাঁই পেলেন ‘দিদি’ অনুগামী নেতারা।
বঙ্গ ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ক্ষোভ উগড়েছেন তৃণমূলের তাবড় তাবড় নেতারা। বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের দিকে আঙুল উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই বলেছেন, দলে হয় অভিষেক থাকবে, নয় আমরা। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত বলেছেন, দিদিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অভিষেক ও আইপ্যাককে দলের হারের জন্য দায়ি করেছেন কম বেশি প্রায় সকল তৃণমূলের নেতারাই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এবার দলে জায়গা হারাচ্ছেন অভিষেক। এককোনে হচ্ছেন। এবার বিভিন্ন জেলা ও সাংগঠনিক স্তরে একাধিক রদবদল করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন দলের রাশ রয়েছে তাঁর হাতেই। পাশাপাশি ঘাসফুল শিবির যে অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চাইছে তাও যেন একপ্রকার স্পষ্ট করে দিলেন নেত্রী।
সূত্রের খবর, নতুন কমিটি অনুযায়ী দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি করা হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন কুণাল ঘোষ। শ্রীরামপুর-হুগলি সাংগঠনিক জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদারকে। বারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় পার্থ ভৌমিককে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অমিত গুপ্তকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবার প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপরই আস্থা রেখেছেন নেত্রী।
হাওড়া সদর জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে। দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে গৌতম দেবকে।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ক্ষেত্রে জেলা সভাপতি অফিশিয়াল ঘোষণা না হলেও অভিষেকের ক্ষমতা যে খর্ব করা হয়েছে তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেছে।