ওঙ্কার ডেস্ক: বহু চর্তিত ইউজিসি নিট পরীক্ষা পুনঃরায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র শিক্ষা দফতর। ফের যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয় সেইকারনে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে কেন্দ্র। এর মাঝেই একাধিকবার আলোচনায় আসা বিতর্কিত অ্যাপ, ‘টেলিগ্রাম’-কে সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা সিধান্ত নেওয়া হয়। চলতি সপ্তাহ থেকেই দেশে কাজ করছে না টেলিগ্রাম। আর এর জেরেই ব্যপক লোকসানের মুখে পরতে হচ্ছে সংস্থাকে। কেন্দ্র সরকারের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দারস্থ হয় টেলিগ্রাম। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয় কেন্দ্রের এহেন অযৌতিক সিধান্তের জন্য বহু ব্যাবহারকারীরা সমস্যার মুখে পরছেন।
টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপকে সাময়িকভাবে ব্লক করার সরকারি নির্দেশের বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সংস্থাটি। কেন্দ্রের জারি করা নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে আবেদন করেছে জনপ্রিয় এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপ, বিশেষ করে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুয়ো তথ্য ছড়ানো এবং বেআইনি কার্যকলাপে টেলিগ্রামের কিছু চ্যানেল ও গ্রুপ ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসে। সেই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিধির আওতায় টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে সাময়িক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, জনস্বার্থ এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে টেলিগ্রামের বক্তব্য, কয়েকটি নির্দিষ্ট চ্যানেল বা ব্যবহারকারীর বেআইনি কাজের জন্য পুরো প্ল্যাটফর্মকে দায়ী করা যায় না। সংস্থার দাবি, তারা নিয়মিতভাবে ক্ষতিকর ও বেআইনি কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতাও করে। আদালতে দাখিল করা আবেদনে টেলিগ্রাম জানিয়েছে, এই ধরনের সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারী, ব্যবসায়িক সংস্থা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীর স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
টেলিগ্রামের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, যদি কোনও নির্দিষ্ট গ্রুপ বা চ্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু গোটা প্ল্যাটফর্মের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশ এবং যোগাযোগের স্বাধীনতার পরিপন্থী। পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল পরিষেবার উপর নির্ভরশীল বহু মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলছে বলেও দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থের প্রশ্নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের বক্তব্য।