
নিজস্ব সংবাদদাতা কলকাতা: যখন ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড়ের মধ্যে বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে সংখ্যালঘুদের আশ্বাসের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘ওয়াকফের জন্য সংসদে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি আমরা’।
বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা বলেন, ‘‘জুমলা পার্টির একমাত্র কর্মসূচি হল দেশ ভাগ করা। তারা ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতিতে বিশ্বাস করে, যা আমরা করি না। আমরা আমাদের সংবিধান অনুসরণ করি।’’
সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে ভোটাভুটি হলে তাঁরা বিলের বিপক্ষে ভোট দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে বিজেপিকে নিশানা করে দলের সাংসদদের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ৮ অগস্ট লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বিলটি ‘অসাংবিধানিক এবং মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী’ বলে অভিযোগ তুলে বিরোধীরা একযোগে তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, ৪৪টি সংশোধন এনে ওয়াকফ বোর্ডের উপর সরকারি কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। দীর্ঘ বিতর্কের শেষে ঐকমত্যের লক্ষ্যে বিলটি জেপিসির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হল লোকসভায় এই বিল পাশ করাতে ২৭২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিজেপির সাংসদ সংখ্যা ২৪০, জেডিইউ-এর ১২ আর টিডিপির ১৬। এ ছাড়াও লোকসভায় চিরাগের দলের পাঁচ জন এবং শিন্দেসেনার সাত জন সাংসদ রয়েছেন। শরিকদের সমর্থন নিশ্চিত হওয়ায় অনায়াসেই বিলটি লোকসভায় পাশ করাতে পারবে এনডিএ শিবির। অন্য দিকে, রাজ্যসভায় এনডিএ-র ১২৫ জন সাংসদ রয়েছেন। ছ’টি আসন শূন্য রয়েছে। ফলে ১১৮ জন সাংসদের সমর্থন পেলে সংসদের উচ্চকক্ষে বিলটি পাশ করাতে পারবে শাসক জোট। রাজ্যসভায় বিজেপির ৯৮ জন, জেডিইউ-এর চার জন, অজিত পওয়ারের এনসিপির তিন জন এবং টিডিপির দু’জন সাংসদ রয়েছেন। বিজেপির আশা, অসম গণ পরিষদ এবং তামিল মানিলা কংগ্রেসের এক জন সাংসদের সমর্থন তারা পাবে। একই ভাবে মনোনীত ছ’জন সদস্যও বিলের পক্ষে ভোট দেবেন বলে আশা পদ্মশিবিরের।
বুধবার সংসদে বিল পেশের আগে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। তৃণমূলের তরফে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলের তরফে তিনি এই বিলের বিরোধিতা করছেন। এই বিল অসাংবিধানিক এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা। ওই প্রসঙ্গে তৃণমূলনেত্রী মমতা নবান্নে বলেন,‘‘আমাদের সকলের প্রথমে সংবিধানকে সম্মান করা উচিত। সর্বদা মনে রাখবেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। যদি কারও কর্ম অমানবিক হয়, তবে তারা কোনও ধর্মকে শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। আমি সকল ধর্মকে সম্মান করি।’’