অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: ‘বিগ বস বাংলা’ এখন আর শুধু খেলা নয়, হয়ে উঠেছে নন্দিনী দত্ত বনাম বাকিদের মঞ্চ। রাজবীর দে-র সঙ্গে তাঁর প্রেমের গল্প দিয়ে শুরু হলেও, এখন সেই গল্পই সবচেয়ে বড় বিতর্ক। সাম্প্রতিক এপিসোডে যা ঘটেছে, তাতে কার্যত দর্শকের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে।
সব শুরু নন্দিনীর দেওয়া আংটি হারিয়ে ফেলা নিয়ে। রাজবীর আংটি হারিয়ে ফেলতেই ক্ষেপে যান নন্দিনী। তাঁর অভিযোগ, আংটি খুঁজতে নাকি মনই ছিল না রাজবীরের। এই টানাপোড়েনের মাঝেই টাস্ক চলাকালীন সৃজলা গুহের সঙ্গে লেগে যায় নন্দিনীর। টাস্কের সময় সৃজলার হাত লেগে নন্দিনীর পোশাক একটু সরে যায়। সৃজলা বলেন, তিনি পরে নিজের মতো করে ক্ষমা চাইবেন। ব্যস, তাতেই আগুনে ঘি। নন্দিনী সরাসরি সৃজলার পরিবার, তাঁর শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন।
পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন রাজবীর। নন্দিনীর হয়েই সৃজলাকে বোঝাতে যান তিনি। কিন্তু রাজবীরের সেই বোঝানোর ভঙ্গিই পছন্দ হয়নি নন্দিনীর। তর্ক এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, হাতাহাতি হওয়ার আগেই রাজবীর ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন নন্দিনীকে। কিন্তু এই দৃশ্য দেখে দর্শক বলছেন, না। প্রথম দিন থেকেই নন্দিনী নাকি রাজবীরকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন। রাজবীর অন্য কারও সঙ্গে কথা বললেই রেগে যাওয়া, বারবার গায়ে হাত তোলা — সবই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। আগে অনেকেই এটাকে ‘খুনসুটি’ ‘প্রেমের অভিমান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার আর মানছেন না কেউ।
সমাজমাধ্যমে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে — নন্দিনী তো সবসময় লিঙ্গ সাম্যের কথা বলেন। তাহলে এখানে উল্টোটা কেন? এই ধাক্কাধাক্কি, গায়ে হাত তোলা যদি রাজবীর করতেন, তাহলে কী হত? অনেকের দাবি, রাজবীরের এবার এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। নাহলে খেলাটাই শেষ হয়ে যাবে তাঁর। আরও বড় দাবি উঠছে নির্মাতাদের কাছে — ‘বিগ বস’এ শারীরিক হিংসা নিষিদ্ধ। তাহলে বারবার এমন ঘটনার পরেও নন্দিনীর বিরুদ্ধে কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
একসময় ‘রাজনন্দিনী’ জুটি নিয়ে মাতামাতি করতেন দর্শক। সিক্রেট রুমে যাওয়ার আগে রাজবীরের কান্না, মন খারাপ — সবই মনে ধরেছিল।এখন প্রশ্ন একটাই — এটা কি সাময়িক ঝগড়া, নাকি ‘রাজনন্দিনী’র শেষের শুরু?