অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: বেঙ্গালুরু হত্যাকাণ্ডে এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্ত্রী-সহ শ্বশুরবাড়ির মোট ৭ জনকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ট্যাক্সিচালক ইন্দুশেখরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এবার জানা গেল, ওই মৃতদেহ গুলো লোপাট করতে বাবাকে সাহায্য করেছে তাঁরই মেয়ে। এমনটাই দাবি পুলিশের। ইন্দুশেখরের পর তাঁর মেয়েকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সীমান্তকুমার সিংহ জানিয়েছেন, বিষয়টি সামনে আসে একটি নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে। সুনীতার বৌদির পরিবারের এক সদস্য নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। সেই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বেশ কিছুদিন ধরে শ্রীরামপুরা এলাকার একটি পরিবারের ছয় সদস্য আচমকা নিখোঁজ। তাঁরা সকলেই গিয়েছিলেন ট্যাক্সিচালক ইন্দুশেখরের বাড়িতে। বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন সময়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। তারপর থেকে আর তাঁদের কোনও খোঁজ মেলেনি।
সেই সূত্র ধরেই ইন্দুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই খুনের কথা প্রকাশ্যে আসে। তারপরই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় ইন্দুশেখর দাবি করেছেন, ১৫-২০ দিন ধরে তিনি এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। প্রথমে স্ত্রীকে খুন করে দেহ লোপাট করে দেন। তারপর একে একে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নিজের বাড়িতে ডেকে এনে খুন করেন। তাঁর দাবি, স্ত্রীর দেহ চিক্কাবল্লাপুরে নন্দন পাহাড়ের কাছে ফেলে দিয়ে আসেন। বাকি দেহগুলি শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়ে আসেন। তবে স্ত্রীর দেহ উদ্ধার হলেও এখনও শ্বশুরবাড়ির ছয় সদস্যের দেহ উদ্ধার হয়নি। সেই দেহের খোঁজে বেঙ্গালুরু জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ইন্দুর দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কেন ইন্দু স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের খুন করলেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাপেরবাড়ির সঙ্গে স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা সহ্য করতে পারছিলেন না ইন্দু। তাঁর সন্দেহ ছিল, সংসারে অশান্তির জন্য দায়ী বাপেরবাড়ির লোকেরাই। সেই সন্দেহ থেকেই ৭ জনকে খুন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে, কয়েক মাস আগে ইন্দুর বিরুদ্ধে সোনার হার ছিনতাইয়েরও অভিযোগ উঠেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।