ওঙ্কার ডেস্ক: বড়দিনের একদিন আগে ইসরোর তত্ত্বাবধানে শ্রীহরিকোটার থেকে সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে ইসরোর সবথেকে বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য এলভিএম-৩ যান উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড-এর মাধ্যমে পরিচালিত এই বাণিজ্যিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোম্পানি এএসটি স্পেসমোবাইলের জন্য প্রথম ব্লুবার্ড ব্লক-২ মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এদিন যান উৎক্ষেপণের সময় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয় ইসরোর তরফ থেকে।
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর শক্তিশালী এলভিএম-৩ রকেটের উৎক্ষেপণ নির্ধারিত সময়ে সামান্য পিছিয়ে দেওয়া হয় সম্ভাব্য কক্ষপথ সংঘর্ষের আশঙ্কার কারণে। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের ঠিক আগ মুহূর্তে ইসরোর মহাকাশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় একটি সতর্কবার্তা আসে। রকেটের নির্ধারিত উড্ডয়নপথে অন্য কোনও উপগ্রহ বা মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে উৎক্ষেপণের সময় প্রায় দেড় মিনিট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা।
এই মিশনে এলভিএম-৩ রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হচ্ছিল একটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ উপগ্রহ, যা ভবিষ্যতে স্মার্টফোনে সরাসরি স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে। উৎক্ষেপণের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রকেটের পথ, কক্ষপথের অবস্থান এবং আশপাশের মহাকাশ পরিবেশ বিশ্লেষণ করে ইসরো। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা ধরা পড়তেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সময়সূচি সংশোধন করা হয়, যাতে মিশনের নিরাপত্তা ও সাফল্য নিশ্চিত করা যায়।
ইসরো সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে বিপুল সংখ্যক উপগ্রহ এবং পুরনো রকেটের ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে প্রতিটি উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রেই সংঘর্ষের ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এই কারণেই উৎক্ষেপণের আগে এবং উৎক্ষেপণের সময় কক্ষপথের প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সামান্যতম সন্দেহ দেখা দিলেও তা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করে না ইসরো।
সময় সামান্য পিছোলেও নির্ধারিত নতুন সময়ে এলভিএম-৩ রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপিত হয় এবং উপগ্রহটিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই ঘটনা ইসরোর প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মহাকাশে ক্রমবর্ধমান ভিড়ের মধ্যেও নিখুঁত পরিকল্পনা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মিশনের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই যে ইসরোর প্রধান লক্ষ্য, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল এই উৎক্ষেপণ ঘিরে।
