ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন মোড়। বিস্ফোরণে নিহত সচ্চিদানন্দ মিশ্রের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক থাকার অভিযোগে এক মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে ওই মহিলার স্বামীকেও। তদন্তকারীরা মনে করছেন, মহিলার স্বামীকে খুনের উদ্দেশ্যেই বিস্ফোরক জাতীয় যন্ত্র তৈরি করেছিলেন সচ্চিদানন্দ। তবে দুর্ঘটনাবশত সেই যন্ত্র তাঁর হাতেই বিপত্তি ডেকে আনে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে আলাপের পর ওই মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সচ্চিদানন্দের। বিষয়টি নিয়ে মহিলার সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। প্রাথমিক অনুমান, প্রেমিকার স্বামীর হাতে অপমান সহ্য করতে না পেরে তাঁকে হত্যার ছক কষেছিলেন সচ্চিদানন্দ। কিন্তু পরিকল্পনা সফল হওয়ার আগেই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান তিনি।
ঘটনার রাতে, রবিবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মধ্যমগ্রাম হাই স্কুলের সামনে ব্যাগ হাতে হেঁটে যাচ্ছেন সচ্চিদানন্দ। হঠাৎ সেই ব্যাগ থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
তদন্তে উঠে এসেছে, উত্তরপ্রদেশের বস্তী জেলার বাসিন্দা সচ্চিদানন্দ পেশায় আইটিআই ছাত্র ছিলেন। কিছু দিন ধরে হরিয়ানার একটি গ্লাস ফ্যাক্টরিতে কাজ করছিলেন। গত তিন দিন ধরে মধ্যমগ্রামে ওই মহিলার আশেপাশেই ছিলেন তিনি। এর আগেও একাধিকবার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে মধ্যমগ্রামে এসেছিলেন বলে খবর। পুলিশের ধারণা, তিনি পেনের মতো বৈদ্যুতিন যন্ত্র বানাচ্ছিলেন, যেটিই বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। ভুলবশত বোতামে চাপ পড়ায় বিস্ফোরণ ঘটে যায়। এদিকে মঙ্গলবার সকালে মধ্যমগ্রাম থানায় ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে পৌঁছান নিহতের বাবা অশ্বিনীকুমার মিশ্র। তিনি জানান, ছেলে কলকাতায় কবে এসেছিল তা তাঁর জানা ছিল না। ছেলের ব্যক্তিগত জীবনে কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও তিনি জানতেন না। মোবাইলের তথ্য খতিয়ে দেখলেই আসল সত্যি সামনে আসবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বারাসত পুলিশ জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝারখারিয়া জানিয়েছেন, নিহতের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপড়েনের তথ্য মিলেছে। তিনি বলেন, ‘‘ব্যাগে কোনও বোমা মেলেনি। কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিই বিস্ফোরণের কারণ বলে প্রাথমিক অনুমান।’’ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে জেলা পুলিশ।
