নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা বঞ্চনার বিরুদ্ধে পথে নামলেন শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকা। মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সোমবার সল্টলেকের করুণাময়ী থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল, যার গন্তব্য ছিল বিকাশ ভবন। শিক্ষকদের একটাই লক্ষ্য—দাবির বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কাছে সরাসরি ডেপুটেশন জমা দেওয়া।
এদিনের মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা জানান, রাজ্যে বর্তমানে মাদ্রাসা পর্ষদ অনুমোদিত ২৩৫টি আন-এইডেড মাদ্রাসা রয়েছে। কিন্তু সেইসব প্রতিষ্ঠান একদিকে যেমন সরকারি অর্থ থেকে বঞ্চিত, অন্যদিকে শিক্ষকরাও পাচ্ছেন না ন্যায্য বেতন। বহু শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নিখরচায় পড়িয়ে যাচ্ছেন, অথচ সরকার কোনো স্থায়ী সমাধান করছে না।
তাদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, প্রথমত, রাজ্যে আগে যেসব মাদ্রাসাগুলিতে বেতন চালু ছিল, সেই ৩১টি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন পুনরায় চালু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২৩৫টি আন-এইডেড মাদ্রাসাকে পূর্ণভাবে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা এইডেড ঘোষণা করতে হবে। তৃতীয়ত, যেসব সিনিয়র ও হাই মাদ্রাসার শিক্ষকরা এখনো বেতন পাচ্ছেন না বা সরকারি স্বীকৃতি পাননি, তাঁদের প্রাপ্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা অবিলম্বে চালু করতে হবে।
বিক্ষোভরত শিক্ষকদের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতিদিয়েছিলেন, কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দিনের পর দিন বিনা পারিশ্রমিকে ক্লাস নিচ্ছি, ছাত্র পড়াচ্ছি, অথচ সরকার আমাদের অস্তিত্বই অস্বীকার করছে। আমাদের সহ্যশক্তি শেষ। এবার চাই চূড়ান্ত সমাধান।”
বিকাশ ভবনের ডিরেক্টরেট অফ মাদ্রাসা এডুকেশনের আধিকারিক ডি.এম.ই শান্তনু বসু-র কাছে আজকের মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা লিখিতভাবে নিজেদের দাবি জানিয়ে ডেপুটেশন দেন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, যদি অবিলম্বে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। রাজ্যজুড়ে লাগাতার বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
এই আন্দোলনের মাধ্যমে একদিকে যেমন শিক্ষক মহলে ক্ষোভ স্পষ্ট, অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের স্বপ্ন যদি সত্যিই বাস্তবায়িত করতে হয়, তবে এই মাদ্রাসাগুলিকে অবহেলার চোখে দেখা কতটা যুক্তিযুক্ত ? এখন দেখার বিষয়, শিক্ষকদের এই চাপের মুখে শিক্ষা দপ্তর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
