ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি সরকার। এবার থেকে আলাদা করে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের অস্তিত্ব থাকবে না। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্বও চলে যাচ্ছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ করবে এসএসসি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বাতিল করে সেটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মার্জ করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক পরীক্ষার ব্যবস্থা আর থাকছে না। কেন বদলানো হল নিয়োগের কাঠামো? প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ২০০৮ সালের আগে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক কোনও বোর্ড বা ব্যবস্থা ছিল না। ২০০৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যের ৬১৪টি মাদ্রাসাকে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি দেয়। পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৮ সালে তৈরি হয় মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন। সেই আইনের ভিত্তিতেই এতদিন মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ হয়ে এসেছে।
বর্তমান সরকার অবশ্য নিয়োগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চাইছে। প্রশাসনের ভাবনা, সব ধরনের শিক্ষক নিয়োগ একটি নির্দিষ্ট কমিশনের অধীনে নিয়ে এলে প্রক্রিয়াটি আরও একক কাঠামোয় পরিচালনা করা সম্ভব হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে রাজ্যে স্বীকৃত মাদ্রাসার সংখ্যা ৬১৪-তেই আটকে রয়েছে। গত ১৫ বছর রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ছিল। ওই সময়ে তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগও উঠেছিল। যদিও সরকারি স্বীকৃত মাদ্রাসার সংখ্যা তৃণমূল জমানায় একটাও বাড়েনি।