মেনোপজ নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে তাকে মেনোপজ বলা হয়। তবে এর আগে কয়েক বছর ধরে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন শুরু হয়, যাকে পেরিমেনোপজ বলা হয়। মেনোপজ নিশ্চিত করা হয় যখন টানা ১২ মাস মাসিক হয় না।
এই সময়ে মূলত ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন আসে। এর প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অংশে পড়তে পারে। অনেকের হঠাৎ গরম লাগা বা ‘হট ফ্ল্যাশ’, রাতে অতিরিক্ত ঘাম, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার অনুভূতি কিংবা ওজন ও শরীরের গঠনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ত্বক শুষ্ক হওয়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, জয়েন্ট বা পেশিতে অস্বস্তি এবং যৌনাঙ্গে শুষ্কতার মতো সমস্যাও হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে যৌনইচ্ছা কমে যেতে পারে বা যৌনসম্পর্কে অস্বস্তি হতে পারে।
তবে মেনোপজ শুধু শারীরিক পরিবর্তনের বিষয় নয়—এর প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি এবং শারীরিক অস্বস্তির কারণে অনেকের মেজাজ দ্রুত বদলে যেতে পারে। অকারণে বিরক্তি, উদ্বেগ, মন খারাপ, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া বা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে বিষণ্ণতার উপসর্গও দেখা দিতে পারে। আবার পরিবারের দায়িত্ব, সন্তানদের বড় হয়ে যাওয়া, কর্মজীবনের চাপ বা নিজের শরীর নিয়ে দুশ্চিন্তাও এই সময়ের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই মেনোপজকে শুধু ‘বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন’ বলে উপেক্ষা করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত জল পান এবং কাছের মানুষের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া উপকারী হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ণতা, তীব্র উদ্বেগ, ঘুমের গুরুতর সমস্যা বা দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
মেনোপজ কোনো অসুখ নয়। এটি জীবনের একটি নতুন পর্যায়। শরীরের পরিবর্তনকে বুঝে, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে এই সময়টিও সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পার করা সম্ভব।