রাজনীতিতে সংখ্যাই সত্য
সংসদীয় গণতন্ত্রে দলগত আদর্শের দিন বহুকালেই দেহ রেখেছে। সেই জায়গা নিয়েছে ইস্যু। দেশের রাজনীতিও এরই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। এককালের চরম অচ্ছ্যুৎ বাম তথা সিপিএম এখন তৃণমূলের সঙ্গে মধুচন্দ্রিমায় মেতেছে। তাই নিয়ে নাক সিটকেছে বিজেপি। তারা বলছে, যে দলের অরাজকতার ফলে তৃণমূলের উৎপত্তি, তারা এখন হাত ধরাধরি করছে। কেউ আবার আগ বাড়িয়ে নিয়ে আসছে ২০১৪ সালের জুন মাসে বিমান বসুদের সঙ্গে নবান্নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফিশফ্রাই সাক্ষাতের প্রসঙ্গ। অনেকটা টিপ্পনির মতো বলতে শোনা যাচ্ছে, এবার কী তাহলে আলিমুদ্দিনের গোলটেবিলে মমতা ফিশফ্রাই খাবেন ? এক একটা সময় এমন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখান থেকে উঠে আসে নানান গপ্প, রসিকতা। এটা একধরণের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। যেকারণে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জনতা জোটে একই মঞ্চে হাতধরাধরি করতে দেখা গিয়েছিল জ্যোতি বসু, অটল বিহারী বাজপেয়ীকে। আপাতদৃষ্টিতে ভোঁতা মনে হলেও, এর মধ্যে থাকে এক সুদূরপ্রসারী ইংগিত। যে ইংগিত অবশ্যই এই ফিশফ্রাইয়ের মধ্যে রয়েছে। তাই হিন্দুত্ব, সম্প্রীতি, বিকাশ- বুলি যাই হোক না কেন বর্তমানে গণতন্ত্রের যাবতীয় বড়াই বড়বেশি সংখ্যাধর্মী। অর্থৎ ক্ষমতা দখলের সমীকরণ সেই ম্যাজিক ফিগার সামনে রেখে। যার উপরে সত্য কিছু নাই। আর এই সত্যই এখন চালিত করে রাজনীতি। যার পথ ধরে এখন জাতীয় রাজনীতি তুলকালাম।