ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্র সরকার রাজ্যের স্কুলগুলিতে আগামী এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সম্পূর্ণ সংস্করণের বন্দে মাতরম্ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বন্দে মাতরম্-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের অনুভূতি আরও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা দফতর ২৭ অক্টোবর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দেয়, ৩১ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সব সরকারি, বেসরকারি ও অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলে সকালের প্রার্থনার সময় বন্দে মাতরম্-এর পুরো সংস্করণ গাওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে। এতদিন পর্যন্ত বেশিরভাগ স্কুলে গানটির প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া হত। সেই প্রচলন ভেঙেই এবার সম্পূর্ণ গানটি গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, স্কুলগুলিকে বলা হয়েছে এই সময়ের মধ্যে বন্দে মাতরম্-এর ইতিহাস ও তাৎপর্য নিয়ে প্রদর্শনী ও আলোচনা সভারও আয়োজন করতে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই গান ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
মহারাষ্ট্র সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক রইস শেখ এই নির্দেশকে ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের দিকে মনোযোগ না দিয়ে সরকার শিক্ষার্থীদের উপর মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি রাজ্য সরকারকে নির্দেশটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এসপির আরেক নেতা আবু আজমি মন্তব্য করেছেন, রাজ্যের সব ছাত্রছাত্রী ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুসারী। তাই কোনও গান বা পাঠ তাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, দেশপ্রেম শেখানো যায় না জবরদস্তির মাধ্যমে, বরং তা আসতে হবে হৃদয় থেকে।
সরকারি শিবির অবশ্য সমালোচনাকে তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপি মুখপাত্রের দাবি, বন্দে মাতরম্ ভারতের জাতীয় চেতনার অংশ, তাই এর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। তিনি আরও বলেন, যারা এই গানের বিরোধিতা করছে, তারা আসলে দেশের সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে অসম্মান করছে। শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আপাতত এক সপ্তাহের জন্যই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তীকালে স্কুলগুলির প্রতিক্রিয়া ও কার্যকারিতা বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, নির্দেশটি স্থায়ী করা হবে কি না।
রাজ্যের বহু স্কুল ইতিমধ্যেই সকালবেলার প্রার্থনায় সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম্ গাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোথাও শিক্ষার্থীদের গানের অনুশীলন করানো হচ্ছে, কোথাও আবার গানটির ইতিহাস নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে দেশপ্রেম, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষানীতির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
