ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন এক তরুণী। মৃতার নাম ময়ূরী গৌরব থোসা। বয়স মাত্র কুড়ি বছরের কাছাকাছি। মাত্র চার মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় অমানবিক চাপ ও দাবিদাওয়া। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ক্রমাগত নগদ অর্থ ও সামগ্রীর দাবি তোলা হচ্ছিল। দাবি পূরণ না করায় শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
ময়ূরীর বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই মেয়ে চাপে ছিল। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সম্পর্কে একাধিকবার তারা শুনেছেন এবং সমস্যা মেটানোর জন্য কয়েকবার আলোচনা করতেও চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং নির্যাতন আরও বাড়তে থাকে। শেষপর্যন্ত সেই অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা ও অপমান ময়ূরী সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
ঘটনার পর পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আত্মহত্যার কারণ হিসেবে মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে মৃতার পরিবারের দাবি, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সরাসরি ফল। তাঁদের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনই ময়ূরীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের হয়নি, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতার পরিবার অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনা ফের একবার সমাজে যৌতুক প্রথার ভয়াবহ রূপকে সামনে এনে দিয়েছে। আইন করে যৌতুক বন্ধের চেষ্টা হলেও বাস্তবে এখনও বহু তরুণীর জীবন এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ময়ূরীর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের কাছে এক মর্মান্তিক সতর্কবার্তা নারীর সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন অনস্বীকার্য।
