ওঙ্কার ডেস্ক : মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলায় আত্মহত্যাকারী সরকারি ডাক্তারের ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর গোপাল বাদানেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ওই সরকারী চিকিৎসকের সুইসাইড নোটের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ৩ জনের মধ্যে ছিলেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত বাঙ্কার। শনিবার সন্ধ্যায় প্রশান্তকে গ্রেফতারের কয়েক ঘন্টা পর খোঁজ মেলে মূল অভিযুক্ত সাব ইনসপেক্টর গোপাল বাদানের। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে গ্রেফতার করে ফালতান পুলিশ। সাতারা এসপি তুষার দোশি জানিয়েছেন, এসআই বাদানে ফালতান গ্রামীণ থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। মানসিকভাবে হয়রানি, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বাঙ্কারকে সাতারা জেলা আদালতে হাজির করা হয়। তারপর পুলিশ তাঁকে চারদিনের হেফাজতে নেয়।
মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চলের বীড জেলার বাসিন্দা এবং সাতারা জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরতা ওই ডাক্তারকে বৃহস্পতিবার রাতে ফাল্টন শহরের একটি হোটেল কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার হাতের তালুতে লেখা সুইসাইড নোটে, তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর বাদনে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন, অন্যদিকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বাঙ্কার তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করেছেন।
সাতারা জেলার ফলতানে এই দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, “আত্মহত্যাকারী ওই চিকিৎসক যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সেই বাড়ির মালিকের ছেলে প্রশান্ত বাঙ্কার।” আত্মহত্যার আগে ওই চিকিৎসক প্রশান্তকে ফোন করেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এই ঘটনায় তদন্ত নামার আগেই সাব-ইন্সপেক্টর বাদনেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার রাতে ডাক্তারকে তার জন্মস্থান বীডের ওয়াদওয়ানি তহসিলে দাহ করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে মৃত চিকিৎসকের আত্মীয়স্বজন। তাঁদের অভিযোগ, একাধিকবার হয়রানির অভিযোগ করা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। আরেক আত্মীয় দাবি, ওই নির্যাতিতা চিকিৎসিক যেখানে কাজ করতেন সেখানে মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। ফালটনের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা প্রায়শই তাকে মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তন করতে বলতেন, কারণ তিনি নিয়মিত ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকতেন। তিনি পিএসআই-র বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু তার অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হয়নি বলে অভিযোগ। বিজেপি বিধায়ক সুরেশ ধাস দাবি করেছিলেন যে মহিলা ডাক্তারকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা সাংসদকে মামলায় অভিযুক্ত করা হোক। তবে তিনি কোনও নেতার নাম উল্লেখ করেননি।
একজন অধস্তন পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগের পর এই বছরের শুরুতে সাতারা জেলার কর্তৃপক্ষের কাছে মহিলা ডাক্তারের জমা দেওয়া একটি কথিত জবাব অনুসারে, তিনি কর্মক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন এবং তার জন্ম জেলা বীডে অপরাধের জন্যও তাকে কটূক্তি করা হয়েছে। নির্যাতিতার দুই দূর সম্পর্কের ভাই অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল প্রশাসন তাকে কেবল মাত্র হয়রানির জন্যই ময়নাতদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।
