মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে অবিলম্বে এফআইআর করে জ্ঞানেশকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। থানা থেকে অবশ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এভাবে এফআইআর করা সম্ভব নয়।
থানা থেকে বেরিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় মহুয়া বলেন, ‘আমি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। থানা থেকে আমাকে ২০২৩ সালের আইনের ১৬ ধারার কথা বলা হল। মোদী সরকার যে আইন পাস করেছিল, তাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।’
এরপরই জ্ঞানেশকে ‘ক্রিমিনাল’ বলে কটাক্ষ করেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, ‘সর্বসম্মতিক্রমে তিনি সিদ্ধান্ত নেননি। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী লিখিতভাবে বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমার যা করছেন, তা অবৈধ ও বেআইনি। সেটা অগ্রাহ্য করেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট টেনে মহুয়ার আরও দাবি, ‘ফর্ম ৬-এ নতুন প্রশ্ন যোগ করা হয়েছে, যা আইন সংশোধন না করে কোনওভাবেই করা যায় না। পশ্চিমবঙ্গে ৩৩ লক্ষ বৈধ ভোটারের বিরুদ্ধে কমিশন আবেদন জানায়। সঁধু ও জোশী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা এ বিষয়ে অন্ধকারে ছিলেন। জ্ঞানেশের থেকে তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন, এই আবেদন কে করল, উত্তর আসেনি।’ ডিজি আইটি সীমা খান্নার সঙ্গে মিলে জ্ঞানেশ ভোটার তালিকা বিকৃত করেছেন বলেও অভিযোগ করেন মহুয়া। বলেন, ‘ব্লকে ব্লকে, বুথে বুথে বিএলও এবং ইআরও-দের ক্ষমতা খর্ব করে পিছন থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এসব এখন আর চাপা নেই। তাই এঁদের বিরুদ্ধে কোনও রক্ষাকবচ থাকতে পারে না।’
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন দুই কমিশনার সঁধু ও জোশী। সেই রিপোর্ট প্রকাশের পরই দেশজুড়ে তোলপাড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা জ্ঞানেশের পদত্যাগ ও গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন। তার মধ্যেই মহুয়ার এই থানায় অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করল।