ওঙ্কার ডেস্ক : ৪ ঠা মের পর পদ্মের উত্থানে কার্যত খড়কুটোর মত উড়ে গেল ২৮ বছরের পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভেঙে খান খান হয়ে দলের অন্দরে এখন নবজাতক নব্য তৃণমূল। এর মাঝেই পুরনো তৃণমূলকে কার্যত হুঙ্কার দিলেন নব্য তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “অভিষেকের হাত ছাড়লে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা তাঁর সঙ্গেই আছি।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
নবজাতক ‘নব্য তৃণমূল’ দ্বন্দ্ব আগের তৃণমূলে
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে একাংশের বিধায়ক আলাদা পরিষদীয় ফ্রন্ট গঠন করেছেন। বর্তমানে ৬৪ জন বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে রয়েছেন ঋতব্রত, আর মুখ্য সচেতক হয়েছেন আখরুজ্জামান। এতদিন বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। বরং তাঁকে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা বা ‘মেন্টর’ হিসেবে মেনে চলার কথা বলেছিলেন। তবে এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি শর্তের সুর শোনা গেল। আখরুজ্জামানের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিলে তাঁরা মমতার নেতৃত্বে থাকার বিষয়ে ভাবতে পারেন। অন্যথায় তাঁরা জোড়াফুল প্রতীক নিয়েই নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ার পথে হাঁটবেন। ভোটে হারার পর দলের নীচ থেকে ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ক্ষুব্ধ। বরং সমস্ত রাগ, অভিমান, বিদ্রোহ একজনকেই কেন্দ্র করে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যে যার মতো করে উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ। অপমান, ক্যামাক স্ট্রিটের ফতোয়া, আইপ্যাকের যথেচ্ছার নিয়ে ফাঁস হচ্ছে নানা স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ। তা সত্ত্বেও অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মত তাঁকে আগলে ধরে রেখেছেন। ৪ ঠা মের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে তৃণমূলের মুখপাত্র রিজু দত্ত দলের অন্দরে ক্ষোভ প্রকাশ করাতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কৃত করা হয়।
ঘাসফুলের ভাঙ্গন, কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন
৭ জুন কেন্দ্রীয় বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার সঙ্গে বৈঠকে গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়। তারপর থেকেই জল্পনা ছড়িয়েছে তিনি কি নিজের পুরনো শিবিরে ফেরৎ যেতে চলেছেন? বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, লোকসভার ২২ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদও একই রকমভাবে আলাদা ‘ফ্রন্ট’ গঠনের আইনি রাস্তায় হাঁটছেন। এরই মধ্যে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে যে, বিপর্যয় সামাল দিতে তৃণমূল কংগ্রেস হয়তো আবার জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি তেমনটা ঘটে, তবে এই আঞ্চলিক বিদ্রোহী নেতাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। তাই তড়িঘড়ি মমতাকে শর্তের বেড়াজালে বেঁধে একদিকে যেমন চাপ বাড়ালেন বিধায়করা, তেমনই ঘুরিয়ে বার্তা দিলেন যে মমতাদির নিজের হাতে তৈরি আদি ও আসল তৃণমূলকে বাঁচিয়ে রাখতেই এই ‘মহাবিদ্রোহ’।
প্রসঙ্গত, বিধান সভায় সই জালিয়াতি কাণ্ড থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা একাধিক বার যুবনেতা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে তলব করেছে কেন্দ্র থেকে রাজ্য-র তদন্তকারী সংস্থা। এরপর রবিবারও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও ভবানীভবনে তলব করা হয়।