নিজস্ব সংবাদদাতা: ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষের রায়ের শক্তির কথা মনে করিয়ে বিজেপিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, “সবাইকে জেলে ভরছেন! কিন্তু মনে রাখবেন, গণতন্ত্রের আদালতে মানুষই আপনাদের জেলে ভরবে। সেই দিন আর বেশি দূরে নয়।”
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অবিচার’ আর ‘বদলার রাজনীতি’ চরমে পৌঁছেছে, এই অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “নির্বাচনের আগে সার্কুলার পাঠিয়ে হাজার হাজার মানুষকে অন্য রাজ্যে নিয়ে গিয়ে জেলে পোরা হয়েছে। কী অপরাধ? বাংলায় কথা বলেছে বলে! মানুষের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করতে চক্রান্ত চলছে।” বিজেপির ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকেও নিশানা করে মমতা বলেন, “মানুষকে হিন্দু-মুসলমানে ভাগ করে নিজেদের ক্ষমতা বাঁচাতে চাইছে বিজেপি। বাংলার মানুষ এই রাজনীতি মানে না। বাংলায় কে কী খাবে, তাও নাকি ঠিক করে দেবে বিজেপি! বিজেপির এক নেতা বলছেন, বাংলায় নাকি ১৭ লক্ষ রোহিঙ্গা আছে। অপমান করছেন বাংলাকে।”
শহিদ দিবসের সভা থেকে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদদের স্মরণ করে মমতা বলেন, “তখন ১৩ জন প্রাণ দিয়েছিল গণতন্ত্র বাঁচাতে। সেই আন্দোলনই আজও চলছে।” দিল্লির ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে ‘বিসর্জন’ দেওয়ার ডাক দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “যেদিন বিজেপিকে দিল্লি থেকে হঠাব, সেদিন লড়াই থামবে।” এদিন মঞ্চে সিপিএম-কেও নিশানা করেছেন তিনি। বলেন, “নর কঙ্কালের সরকার বাংলাকে শেষ করেছিল। রাম-বাম এক হয়ে বাংলা ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু মানুষ উন্নয়ন আর গণতন্ত্রকেই বেছে নিয়েছে।”
সরকারি প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে মমতা বলেন, “৯৪টি প্রকল্প চালু রয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী চলছে পুরোদমে। ৯ কোটি মানুষ রেশন পান। ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে। কর্মশ্রীতে ৭৭ লক্ষ মানুষ কাজ পেয়েছে, ৮৩ কোটি কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা ৮ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করেও বাংলা থামেনি। বাংলা মাথা নত করবে না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই এই লড়াইয়ের বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
