স্পোর্টস ডেস্ক : চতুর্থ দিনে ভারত ০/২ এবং দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে ৩১১ রান পিছিয়ে থাকায় মনে হচ্ছিল তারা ম্যাচ এবং সিরিজটি হেরে যাবে। কিন্তু গিল (১০৩), রবীন্দ্র জাদেজা (১০৭ অপরাজিত) এবং ওয়াশিংটন সুন্দর (১০০ অপরাজিত)- এর শতরানের একটি স্মরণীয়, শক্তিশালী এবং দৃঢ় ব্যাটিং প্রদর্শনের ফলে ইংল্যান্ড সফরে ভারত একটি অলৌকিক এবং স্মরণীয় ড্র অর্জন করেছে।
অধিনায়ক শুভমান গিল বলেছেন, “গত কয়েকদিন ধরে চাপের মধ্যে থাকা ব্যাটিংয়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আমরা অনেক চাপের মধ্যে ছিলাম কিন্তু যেভাবে আমরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি, বিশেষ করে দুটি উইকেট হারানোর পর, তা ছিল খুবই সাহসী প্রচেষ্টা।”
ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস তখন ১৩৮ ওভার চলছে। স্কোর ৩৮৬-৪। ক্রিজ়ে ওয়াশিংটন সুন্দর (৮০) এবং রবীন্দ্র জাডেজা (৮৯)। ম্যাচ শেষ হতে তখনও প্রায় ঘন্টা দেড়েক বাকি। হঠাৎই জাডেজার দিকে এগিয়ে এসে হাত মেলাতে গেলেন বেন স্টোকস। ম্যাচ ড্র করার প্রস্তাব দিলেন। ভারতের দুই ব্যাটার সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। প্রতিপক্ষ রাজি না হলে আম্পায়ারেরাও কিছু করার থাকে না। অগত্যা খেলা চালিয়ে যেতে হল।
এরপর হারের মুখ থেকে ড্র ছিনিয়ে নেওয়ার অদম্য লড়াই। যে দলকে নিয়ে চতুর্থ দিনের শুরুতে কেউ কোনও আশাই রাখেননি, তাঁরাই জাডেজা ও ওয়াশিংটনের কাঁধে ভর করে পঞ্চম দিনে মাঠ ছাড়ল মাথা উঁচু করে। ম্যাচ ড্র হলেও, রবি শাস্ত্রী ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় বলে দিলেন, ম্যাঞ্চেস্টারে ভারতের ‘নৈতিক জয়’ হয়েছে।

ম্যাচের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি অনুষ্ঠানে গিল বললেন, “এটা আসলে সমীকরণ থেকে উইকেট তুলে নেওয়ার বিষয় ছিল। তুমি শুধু বল করে বল খেলতে চাও, কারণ প্রতিটি বলই একটা ইভেন্ট, বল করে বল করে খেলাটা যতটা সম্ভব গভীরভাবে নিতে হবে”। শেষের দৃশ্যে, যেখানে জাদেজা এবং সুন্দর বেন স্টোকসের সাথে ড্রয়ের জন্য করমর্দন করতে অস্বীকার করলেন, উপরন্তু দুজনেই নিজে সেঞ্চুরি করে গেলেন। গিল জানিয়েছেন, “শেষ দিনের শেষ সেশন পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ। অনেক কিছু শেখা যায়। প্রতিটি টেস্ট ম্যাচ আপনাকে ভিন্ন কিছু শেখায়। এটি আমাদের দল হিসেবে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আশা করি আমরা পরের ম্যাচ জিততে পারব এবং সিরিজ ড্র করতে পারব।” দ্বিতীয় ইনিংসে গিলের দৃঢ় ১০৩ রান ছিল তার নবম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং চলতি সিরিজের চতুর্থ। তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে সতীর্থদের দায়িত্বের সঙ্গে ব্যাট করার জন্য আনন্দ প্রকাশ করেন।
ওয়াশিংটন প্রতি বারই মুখ বুজে নিজের কাজটা করে যান। রবিবারের ইনিংসটাও সেভাবেই খেললেন। তিনি ভালই জানতেন, একটা ভুল পদক্ষেপ মানে বিপদ অনিবার্য। গোটা ইনিংসে একটাও সুযোগ দিলেন না বিপক্ষকে। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ম্যাচ যেদিকে এগোচ্ছিল তাতে কোনো ঝুঁকি নেওয়ারও প্রয়োজন ছিল না। শুভমান ফিরে যাওয়ার পর সেই কাজটাই করলেন জাডেজাও। সব দলই চায় ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন খেলাতে। কিন্তু রবিবার ম্যানচেস্টারে ভারত অন্য কৌশল নিল। দুই বাঁহাতিকে খেলিয়ে একশ শতাংশ সফল ভারতের অধিনায়ক।
শুভ্মান বলেন, “সত্যি বলতে, অতীতে তুমি কত রান করেছো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিবার যখন তুমি দেশের সাদা পোশাক পরে হাঁটবে, তখন কিছু না কিছু চিন্তাভাবনা থাকবেই। এটাই বলে দেয় দেশের হয়ে খেলতে আমার কতটা আগ্রহ এবং এই খেলাটা আমার কতটা ভালো লাগে। প্রতিবার যখন আমি ব্যাট করি, আমি আমার সেরাটা খেলতে চাই এবং যতটা সম্ভব আমার ব্যাটিং উপভোগ করতে চাই।”
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ওভালে পরবর্তী টেস্টের জন্য জসপ্রীত বুমরাহ সুস্থ হওয়ার সময় পাবে কিনা জানতে চাইলে গিল বলেন, “আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা (ওভালে) ম্যাচ জিতছি, ততক্ষণ পর্যন্ত টস (ফলাফল) নিয়ে আমার আসলে কোনও মাথাব্যথা নেই।”
