ওঙ্কার ডেস্ক: ফের উতপ্ত উত্তরপূর্ব ভারতের অসান্ত রাজ্য মণিপুর। ২০২৩ সালের মে মাস থেকেই মণিপুরে কুকি ও মৈতি সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হওয়া লড়াই যে ভয়াবহ রুপ নিয়েছিল তার রেশ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি রাজ্যের মানুষ। এখনও নিজেরদের ঘরবাড়ি, পরিবার ছেড়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে রয়েছেন বহু মানুষ। আবার এর মধ্যেই নতুন করে হিংসার শিকার হলেন কুকি সম্প্রদায়ের দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরা। মঙ্গলবার মণিপুরের নোনি জেলায় দুই কুকি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ভয়াবহ গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫ জন যুবকের। মৃতরা সবাই চিন কুকি মিজো আর্মির সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি থেকে দুই বছর আগে পৃথক হয়ে তৈরি হয়েছিল কুকি মিজো আর্মি। দীর্ঘদিন ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বিস্তার এবং ভারত-মায়ানমার সীমান্ত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছিলই। মঙ্গলবার সেই বিবাদের জেরেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বলে মনে করছে পুলিশ। এই গুলির লড়াই হয় নোনি জেলা সদর দপ্তর নুংবা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে দেইভেংজাং গ্রামের গভীর জঙ্গলে। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম। মূল সড়কপথ বা মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই বললেই চলে। ফলে সংঘর্ষের খবর পৌঁছতে অনেকটাই দেরি হয়। খবর পেয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর একটি দল পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।”পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মৃত ৫ যুবকের নাম অ্যালেক্স, সেইবোই, পংবা, রিঙ্গো এবং র্যা ম্বো। তাঁদের সকলেরই ইউকেএনএ সঙ্গে যোগ ছিল বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।
উল্লেখ্য, মণিপুরের কুকি সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে কেন্দ্র সরকার কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘সাসপেনশন অফ অপারেশনস’ চুক্তি করেছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই চুক্তি সই হয়। তবে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি ও চিন কুকি মিজো আর্মি দুই গোষ্ঠীই এই চুক্তির বাইরে রয়েছে। ফলে নিয়মিতভাবেই এই দুই শিবিরের মধ্যে দখলদারিত্ব নিয়ে সংঘর্ষ লেগেই থাকে বলে প্রশাসনের দাবি।
২০২৩ এর মে মাস থেকে শুরু হওয়া মেতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের রক্তক্ষয়ী হিংসা ইতিমধ্যেই ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ নিয়েছে। ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ৬০,০০০ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও স্থিতাবস্থা এখনও ফিরিয়ে আনা যায়নি। এই নতুন সংঘর্ষ রাজ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এদিকে, নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্তা।
