ওঙ্কার ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’-র দাপটে তছনছ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চল। প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। উপকূলবর্তী জেলা নেল্লোর, বাপটলা, ও প্রাকাশম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পশ্চিমে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি রবিবার রাতের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। সোমবার সকালে সেটি অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে। ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে বহু কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে, গাছ উপড়ে পড়েছে, রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ভাউজ্যাক থেকে শুরু করে গুন্টুর পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও নৌবাহিনীর দল মোতায়েন করেছে। প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং জরুরি সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে দ্রুত।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে গাছ পড়ে চাপা পড়ে, আর এক জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বহু স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে দুর্ঘটনা এড়াতে। উপকূলের গ্রামগুলিতে এখনো প্রবল জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থাকায় সবাইকে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি এখন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে ওড়িশা ও ছত্তীসগঢ়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই সকাল থেকে কলকাতা সহ তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে আকাশের মুখ ভার। বিক্ষিপ্ত ভাবে কখনও মাঝারি আবার কখনও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে এই সকল জেলাগুলিতে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। আগামী ৩১ অক্টোবর, শুক্রবার পর্যন্ত এমনি আবহাওয়ার পরিস্থিতি থাকবে বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে নামতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও জারি কমলা সতর্কতা। উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। আবারও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা। পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে ধসের আশঙ্কা। বুধবার জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় মান্থার প্রভাবে যাতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয় কিংবা উত্তরবঙ্গে যাতে ঠিক করে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছতে পারে সেই বিষয় মঙ্গলবারই সব জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
