গাঁদা ফুল শীতকালীন বাগানের অন্যতম জনপ্রিয় ফুল। অল্প যত্নেই গাঁদা গাছে প্রচুর ফুল পাওয়া যায়। সাধারণত বীজ থেকে চারা তৈরি করা হলেও সুস্থ গাছের ডাল বা কাটিং থেকেও সহজেই নতুন চারা তৈরি করা সম্ভব।
কাটিং থেকে চারা তৈরির পদ্ধতি :
প্রথমে একটি সুস্থ, রোগমুক্ত ও সবল গাঁদা গাছ বেছে নিন। গাছের নরম ডগার প্রায় ৪–৬ ইঞ্চি লম্বা ডাল ধারালো ও পরিষ্কার ছুরি বা কাঁচি দিয়ে কেটে নিন। নিচের দিকের পাতাগুলো তুলে দিয়ে উপরের দিকে ২–৩টি পাতা রেখে দিন। চাইলে কাটিংয়ের নিচের অংশে রুটিং হরমোন ব্যবহার করতে পারেন, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
এরপর বালি, কোকোপিট ও ঝুরঝুরে মাটি মিশিয়ে একটি হালকা মাধ্যম তৈরি করুন। কাটিংয়ের নিচের অংশ প্রায় ১–২ ইঞ্চি মাটির মধ্যে পুঁতে দিন। টবটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে উজ্জ্বল আলো থাকবে, তবে প্রথম দিকে সরাসরি প্রখর রোদ নয়। মাটি সামান্য ভেজা রাখুন, কিন্তু অতিরিক্ত জল দেবেন না। সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কাটিংয়ে শিকড় গজাতে শুরু করে। নতুন পাতা বের হলে বুঝতে হবে চারা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
গাঁদা গাছের পরিচর্যা :
গাঁদা গাছের জন্য পর্যাপ্ত রোদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন প্রায় ৫–৬ ঘণ্টা সরাসরি রোদ পেলে গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং ফুলের পরিমাণও বাড়ে। টবের মাটি হতে হবে ঝুরঝুরে ও জল নিষ্কাশনের উপযোগী। টবের নিচে অবশ্যই ছিদ্র রাখুন, যাতে অতিরিক্ত জল জমে না থাকে।
গাছের মাটি শুকিয়ে গেলে প্রয়োজনমতো জল দিন। প্রতিদিন অল্প অল্প করে জল দেওয়ার বদলে মাটির আর্দ্রতা দেখে জল দেওয়া ভালো। প্রতি ১৫–২০ দিন অন্তর জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট বা পচা গোবর সার দিতে পারেন।
বেশি ফুল পাওয়ার কৌশল :
গাছ যখন কিছুটা বড় হবে, তখন ডগা ছাঁটাই বা পিঞ্চিং করলে পাশ থেকে নতুন শাখা বের হয়। বেশি শাখা মানেই সাধারণত বেশি ফুলের সম্ভাবনা। শুকিয়ে যাওয়া ফুল নিয়মিত তুলে ফেলুন, এতে গাছ নতুন কুঁড়ি তৈরিতে উৎসাহ পায়। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করবেন না—এতে পাতার বৃদ্ধি বেশি হয়ে ফুল কম হতে পারে।
সবশেষে, গাছে পোকামাকড় বা রোগের আক্রমণ নিয়মিত নজরে রাখুন। পর্যাপ্ত রোদ, সঠিক জল, ঝুরঝুরে মাটি, নিয়মিত ছাঁটাই এবং সুষম সার—এই কয়েকটি বিষয় ঠিক রাখলেই গাঁদা গাছে দীর্ঘ সময় ধরে সুন্দর ও প্রচুর ফুল পাওয়া সম্ভব।