ওঙ্কার ডেস্ক : ক্রমেই অগ্নিগর্ভ নেপালের পরিস্থিতি। সংসদ ভবনের পর সচিবালয়ের দিকে এগোচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। জ্বলছে একাধিক এলাকা। সবচেয়ে উত্তপ্ত কাঠমাণ্ডু। দুর্নীতি এবং সরকারের বেশ কয়েকটি মিডিয়া অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে কাঠমান্ডুতে। প্রথমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে ধীরে ধীরে উত্তাপ বাড়তে থাকে। সংসদে প্রবেশ করেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। সেখানে ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে। সেসময় পুলিশের গুলিতে ১২ বছরের এক কিশোরসহ অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা কারফিউ নিষেধাজ্ঞা ভেঙে সংসদের কাছে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করার পর নেপালের রাজধানীতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, বিক্ষোভের জেরে নড়চড়ে বসেছে নেপাল সরকার। আপাতত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে। সোমবার সন্ধ্যায় এই কারণে নেপাল মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অলি সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ কোথায় পৌঁছোয় তা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিন বিক্ষোভ সামলাতে সরকার জলকামান, টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে। কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, কিছু বিক্ষোভকারী এমনকি সংসদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। রাজধানীর বানেশ্বর এলাকায় প্রাথমিকভাবে আরোপিত কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন। নতুন বিধিনিষেধের মধ্যে এখন রাষ্ট্রপতির শীতকালীন বাসভবন, উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন লৈনচৌর, মহারাজগঞ্জ, সিংহ দরবারের চারপাশ, বালুওয়াতারে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এবং সংলগ্ন এলাকাগুলির মতো বেশ কয়েকটি জায়গায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থ্যা করা হয়েছে।

জেলা কর্মকর্তা ছাবিলাল রিজালের মতে, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ বজায় থাকবে। এই অঞ্চলগুলির মধ্যে জনসাধারণের চলাচল, সমাবেশ, বিক্ষোভ বা ঘেরাও কার্যক্রম থেকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটের আঘাতে দু’জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কাঠমান্ডুতে, কান্তিপুর টেলিভিশনের সাংবাদিক শ্যাম শ্রেষ্ঠ বানেশ্বরে বিক্ষোভের খবর করতে গিয়ে রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হন। তিনি বর্তমানে সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে, বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নিজ শহর দামকে আরও একজন আহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পোখরায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করেছে, যেখানে বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি এই বিষয়ে জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন।

শুক্রবার থেকে ফেসবুক, ইউটিউব এবং X সহ বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া সাইট নিষিদ্ধ করে নেপাল সরকার। এ ধরণের ২৬টি অ্যাপ ব্লক করার পর থেকে ব্যবহারকারীরা ক্ষুব্ধ এবং বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলিতে নেপালে লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী রয়েছেন যারা বিনোদন, সংবাদ এবং ব্যবসার জন্য তাদের উপর নির্ভর করেন।
এই পদক্ষেপ জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, যারা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যক্তি স্বাধীনতা দমন করার অভিযোগ এনেছে। সেই সঙ্গে এই বিক্ষোভে যুক্ত হয়েচফহে ব্যাপক দুর্নীতি, যা মোকাবিলায় ব্যর্থ সরকার। সোমবার, হাজার হাজার সাধারণ মানুষ কাঠমান্ডুতে মিছিল করে সরকারকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশে ছড়িয়ে থাকা দুর্নীতি দমনের দাবি জানায়।
