নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাত বন্ধের দাবিতে রাস্তায় নামলেন মণিপুরের সাধারণ মানুষ। ইম্ফল সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রকে চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে বিশাল মিছিল বের হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের মানুষের জানমাল রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ বর্তমান বিজেপি সরকার, তাই অবিলম্বে তাদের ইস্তফা দিতে হবে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকেই এই পথে নামা বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মূলত দুটি দাবিকে সামনে রেখে এই মিছিল। এক, দ্রুত জাতি-হিংসা বন্ধ করে নিরাপত্তা ফেরানো, দুই, ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষকে নিজের ভিটেয় ফেরানো।
কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি বা কোকোমির প্রাক্তন আহ্বায়ক খুরাইজাম আথৌবা চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
প্রথমত, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে মণিপুরে এনআরসি চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, রাজ্য থেকে অসম রাইফেলসকে সরিয়ে নিতে হবে। চতুর্থত, ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে কোকোমির বর্তমান আহ্বায়ক ওয়াই ধীরেন বলেন, “সরকার মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করতে পারেনি, তাই আমরা পদত্যাগ চাইছি।” তাঁর কথায়, জনস্বার্থ বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ আজ গলা তুলেছেন, তাই এই মিছিল ঐতিহাসিক।
প্রাক্তন আহ্বায়ক আথৌবার অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, মণিপুরের উপজাতিদের বিরুদ্ধে আড়ালে ছায়াযুদ্ধ চালানো হচ্ছে। এর পিছনে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা এবং রাজ্য থেকে মাদক ও জঙ্গি গোষ্ঠীকে উচ্ছেদের দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৩-এর মে থেকে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে রাজ্যে স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত। সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, ঘরছাড়া হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।