ওঙ্কার ডেস্ক: দাম্পত্য কলহে যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফের এক হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তবে তাড়াতাড়ি সেই সম্পর্ক শেষ করে দেওয়াই ভালো, এমনই মন্তব্য করল বম্বে হাই কোর্টের নাগপুর বেঞ্চ। ৮ জুলাই দেওয়া এক নির্দেশে বিচারপতি নীতিন সাম্ব্রে এবং বিচারপতি এম এম নেরলিকার জানিয়েছেন, বৈবাহিক সম্পর্ক অকারণে ঝুলিয়ে রাখলে দুই পক্ষের জীবন নষ্ট হয়ে যাবে।
এই মামলায় বিচারপতিরা বলেন, দাম্পত্য জীবনে অশান্তি থাকলেও যদি স্বামী-স্ত্রী পারস্পরিকভাবে সমাধান চান, তবে আদালতের কর্তব্য সেই সমাধানকে সমর্থন করা। যদিও পণ অত্যাচার বা অস্বাভাবিক যৌনতার মতো অভিযোগ ফৌজদারি আইন অনুযায়ী সহজে মিটিয়ে ফেলা যায় না, তবুও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত মামলাটি খারিজ করতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আজকাল দাম্পত্য সমস্যায় স্বামীর পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে একসঙ্গে মামলা দায়েরের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে এসব ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। এবিষয়ে বিচারপতিরা বলেন, ‘‘আজকের দিনে ছোট ছোট বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তুচ্ছ ঝামেলায় পুরো জীবন নষ্ট হচ্ছে। হিন্দুদের কাছে বিয়ে শুধু সামাজিক চুক্তি নয়, এটি পবিত্র আধ্যাত্মিক বন্ধন, দুই আত্মার মিলন। অথচ নানা কারণে এই সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে।’’ আদালতের মতে, সংসার টিকিয়ে রাখতে আইন আছে ঠিকই, তবে বহু মানুষ সেই আইনকে নিজের সুবিধায় ব্যবহার করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবারের অন্য সদস্য বিশেষ করে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে তাদের মানসিক শান্তিও।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সমাজে সংসার ও সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবনার দরকার আছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। আদালতের কথায় স্পষ্ট, যদি বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা না যায় তাহলে সেটা তাড়াতাড়ি মিটিয়ে নেওয়াই সবার মঙ্গল। অথচ একসঙ্গে থাকতে চাইলে আদালত তাদের পাশে থাকবে, সমাধানের চেষ্টা করবে। আদালত চায়না যে সম্পর্কের ভবিষৎ অনিশ্চিত অহেতুক সেই সম্পর্ক নিয়ে টানাটানি হোক।
