ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক স্তরের এক ক্রীড়া তারকার কলকাতা সফরে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি লজ্জিত বলেও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র রাজ্যের ভাবমূর্তিকেই নয়, দেশের সম্মানকেও ক্ষুণ্ণ করেছে।
১৩ ডিসেম্বর ভারতে মেসির আগমন উপলক্ষে সল্টলেক স্টেডিয়ামে বিপুল সংখ্যক দর্শক জমায়েত হয়েছিলেন। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখার, কিছুটা সময় মাঠে থাকার এবং হয়তো বক্তব্য শোনার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মেসির উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য। ভিআইপি ও আমন্ত্রিতদের ঘেরাটোপে তিনি থাকায় সাধারণ দর্শকদের বড় অংশ তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি। এই হতাশা থেকেই ধীরে ধীরে ক্ষোভ জমতে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির রূপ নেয়। স্টেডিয়ামের ভেতরে দর্শকদের একাংশ চিৎকার শুরু করেন, কেউ কেউ চেয়ার ভাঙচুর করেন, এমনকি মাঠের দিকেও বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আয়োজকদের। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর স্টেডিয়ামের একাধিক অংশে আবর্জনা, ভাঙা চেয়ার ও ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে আসে। স্টেডিয়ামে আগুন লাগারও খবরও শোনা যায়। গোটা ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তায় জানান, সল্টলেক স্টেডিয়ামে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। একজন বিশ্ববিখ্যাত ক্রীড়াবিদের সামনে এমন বিশৃঙ্খলা কখনওই কাম্য নয়। তিনি লিওনেল মেসি, তাঁর অনুরাগী এবং সমস্ত ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এই ঘটনার দায় কার বা কোথায় গাফিলতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানে দর্শক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনা ফের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বলেই মনে করছেন অনেকেই।
