ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগপত্র ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শামিক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগ কোনওভাবেই নৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক নাটক, যার মাধ্যমে আসল দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে।
শামিক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, একটি পদত্যাগপত্র দিয়ে গোটা ঘটনার দায় চাপা দেওয়া যাবে না। তাঁর কথায়, “শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না।” তিনি অভিযোগ করেন, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত বহুল আলোচিত অনুষ্ঠানে যে বিশৃঙ্খলা ও বিশাল অব্যবস্থাপনা দেখা গিয়েছে, তার জন্য শুধু একজন মন্ত্রীকে সামনে এনে দায় ঝেড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রকৃত দোষীরা এখনও আড়ালেই রয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিজেপি রাজ্য সভাপতির আরও অভিযোগ, ঘটনার পর যেভাবে সাধারণ টিকিটধারী দর্শকদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁর প্রশ্ন, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে এই অব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেন কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং বলেন, গোটা বিষয়টিতে প্রশাসনের সক্রিয় মদত ছিল কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।
অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাস নিজের পদত্যাগপত্রে দাবি করেছেন, তিনি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনও তদন্তকে প্রভাবিত করতে চান না এবং মুখ্যমন্ত্রী যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তা মেনেই চলবেন। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির দাবি, এই পদত্যাগের মাধ্যমে আসল প্রশ্নগুলি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, আর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বলা হচ্ছে, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে এবং সত্য উদঘাটনে কোনওরকম আপস করা হবে না। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।
