ওঙ্কার ডেস্ক: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে বড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে। ফলে জেল থেকে বেরিয়েই উপনির্বাচনে লড়তে পারবেন তিনি। প্রচারেও আপাতত কোনও বাধা থাকছে না। তবে বেশ কিছু শর্ত মেনেই এই জামিন দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত মিলনের অন্তর্বর্তী জামিন বহাল থাকবে। ২১ অক্টোবর ফের মামলাটি আদালতে উঠবে।
উল্লেখ্য বুধবার জামিনের আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে যান মিলন। তাঁর আইনজীবীরা বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে জামিনের আবেদন জানাতে চেয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, মিলন উপনির্বাচনের প্রার্থী। জামিনের আবেদন শুনতে সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত মামলাটির শুনানির আবেদন জানানো হয়।আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি ঘোষ। এরপর বৃহস্পতিবার মামলাটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।বিচারপতি জানান, মিলনকে উপনির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেওয়া হোক। সেই কারণেই তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ছিল, তিনি অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছেন। মিলন নির্বাচনে অংশ নিন। পরবর্তী সিদ্ধান্ত মামলার গতিপথের উপর নির্ভর করবে।
এরপর শুক্রবার বিকেলে শুনানির দিন নির্ধারিত হয়। তবে সেদিনও মিলনের জামিন মঞ্জুর হয়নি। চারটি মামলায় জামিনের আবেদনের শুনানি হয়। পাশাপাশি আরও দু’টি মামলাতেও জামিন চেয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার বিচারপতি ঘোষ জানান, বাকি দুই মামলায় সোমবার জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি হবে। ওই শুনানি শেষ হওয়ার পরই অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। যদিও সোমবার সেই শুনানি পিছিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ১৯ বছর আগের মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে দাবি, ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময়ের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। খেজুরি থানাতেও একটি মামলা রয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি ভাবে জমায়েত এবং লুটপাটের মতো অভিযোগে ওই মামলাগুলি দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যদিও মিলনের গ্রেফতারি নিয়ে বিরোধীরা সরব। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।