নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: পুজোর আগে শহর সাজাতে রাস্তায় রং করা নিয়ে তীব্র বিতর্ক। গত বুধবার দুপুরে বৃষ্টির পর চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে পরপর বাইক পিছলে দুর্ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই অভিযোগ ওঠে, সৌন্দর্যায়নের জন্য করা রঙের কারণেই চাকা স্কিড করছে। যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ পুলিশ-প্রশাসন। এমতাবস্থায় এই ঘটনায় পুলিশকে চিঠি দিয়ে সরব হলেন পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ ও যান বিশেষজ্ঞ সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ।
বৃহস্পতিবার বাইক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার দাবি করেছিলেন, রাস্তায় ব্যবহৃত রং ‘অ্যান্টি-স্কিড’ এবং রিল বানাতে গিয়েও বাইকচালকেরা ভারসাম্য হারাতে পারেন। এক কথায়, রঙের জন্য যে এই দুর্ঘটনা ঘটেনি তা সাফ জানিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের এই দাবির পর শুক্রবার কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেন সোমেন্দ্রমোহন। তাঁর প্রশ্ন, রাস্তায় যে রং ব্যবহার করা হয়েছে তা অ্যাসফল্টের জন্য উপযুক্ত থার্মোপ্লাস্টিক পেন্ট কি না এবং তা হট প্রসেস না কোল্ড প্রসেসে লাগানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, রং প্রস্তুতকারক সংস্থার কাছ থেকে লিখিত শংসাপত্র নেওয়া হোক। তাঁর বক্তব্য, গ্লসি এনামেলের বদলে ম্যাট ফিনিশ রং কম পিচ্ছিল হলেও অ্যাসফল্টে তা টেকে না, তাই ১৮০ থেকে ২২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় গলিয়ে থার্মোপ্লাস্টিক রং ব্যবহার করাই নিয়ম এবং তা চার-পাঁচ বছর টেকার কথা। অথচ গড়িয়াহাট উড়ালপুলে সামান্য হাঁটাচলাতেই রং উঠে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিতর্কের জেরে বৃহস্পতিবার থেকেই তৎপর প্রশাসন। দুর্ঘটনা এড়াতে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে হলুদ ফাইবার ব্লক বা স্পিড ব্রেকার বসানো শুরু হয়েছে। অন্যদিকে পুরসভার অত্যাধুনিক গাড়ি দিয়ে গড়িয়াহাট উড়ালপুলের রামধনু রং ঘষে তুলে ফেলা হচ্ছে। আসানসোলে শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের কাছেও সদ্য করা রং মোছার কাজ চলছে।
দুই উড়ালপুলে দুই রকম ব্যবস্থা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। গড়িয়াহাটে রং তোলার ভিডিয়ো পোস্ট করে তিনি লেখেন, “অবৈজ্ঞানিক বিপজ্জনক রং তুলতেই যদি হয়, লাগালেন কেন? দুর্ঘটনার দায় কে নেবে, কাদের টাকার শ্রাদ্ধ হল?”
যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রঙের কারণে দুর্ঘটনার তত্ত্ব খারিজ করে প্রশ্ন তুলেছেন, রং করার জন্য দুর্ঘটনা হয় নাকি এবং কতগুলো উড়ালপুলে দুর্ঘটনা হয়েছে। নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অয়েল পেন্ট ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, রাস্তায় অ্যান্টি-স্কিড রংই ব্যবহার হয়েছে, উড়ালপুলের দেওয়ালের অয়েল পেন্ট থেকে বিপত্তি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকার শ্রাদ্ধের অভিযোগ উড়িয়ে তাঁর দাবি, সৌন্দর্যায়নের কাজ সরকারি টাকায় নয়, কয়েকটি সংস্থা CSR তহবিল থেকে করে দিয়েছে।