ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাপান সফর যে দেশের সুবিধার্থে যাচ্ছে তা স্পষ্ট। আগেই বুলেট ট্রেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বানিজ্যিক বিষয়ক ব্যাপারে ইতিবাচক প্রতিক্রীয়া মিলেছে, এবার সরাসরি পেঁহেলগাম হামলার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে জাপান বৈঠকে। প্রসঙ্গত এই প্রথম আন্তর্জাতিক স্তরে কাশ্মীরে পর্যটক দের উপর হামলার নিন্দা করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ এবং সীমান্ত চরমপন্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ করতে হবে। বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠীর নাম। ঐ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত অপরাধী, সংগঠনকারী এবং অর্থ জোগানদাতাদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’’ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর নাম উঠে আসার প্রসঙ্গও তাতে টানা হয়েছে। মোদী জানান, এই গোষ্ঠীই এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা সে খবর শুনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আল কায়েদা, আইসিস, লশকর-ই-তৈয়বা, জইশ-ই-মহম্মদের মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলিকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের ডাক দেওয়া হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে। জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় ধ্বংস করে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সরাসরি পাকিস্তানের নাম বলা হয়নি, তবুও গোষ্ঠীগুলির নাম উল্লেখ করে ইঙ্গিত পরিষ্কার।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং ৬ মে রাতে চালায় ‘অপারেশন সিঁদুর’। সেই অপারেশনে পাকিস্তানে স্থিত ৯ টি জঙ্গি ঘাঁটি ধূলিসাৎ করে দেই। ঘটনার পর পাকিস্তানি সেনা সরাসরি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পরে। ১০ মে সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। যদিও পাকিস্তান প্রথম থেকেই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
শুধুমাত্র ভারত পাকিস্তান ছাড়াও টোকিও বৈঠকে বিশ্ব শান্তির কথা বলা হয়েছে। মোদী ও ইশিবা আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষে মত দেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, বিশেষত গাজা প্রসঙ্গও যৌথ বিবৃতিতে উঠে আসে।
