ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশেষে মণিপুরে পা রাখতে চলেছেন। ২০২৩ সালের ভয়াবহ জাতিগত হিংসার পর এটাই তাঁর প্রথম সফর। দুই বছর কেটে গিয়েছে। শতাধিক মানুষের মৃত্যু, হাজার হাজার পরিবারের বাস্তুচ্যুতি, গ্রাম পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া সবই এই সময়ের মধ্যে ঘটেছে। অথচ দিল্লি নিরবতা পালন করছিল। মণিপুরের সাধারন মানুষ প্রশ্ন তুলতেই পারেন প্রধানমন্ত্রী এত দিন কোথায় ছিলেন? কেন তিনি মণিপুরের মানুষকে এতটা উপেক্ষা করলেন?
ভারতের নর্থ-ইস্ট শুরু থেকেই কেন্দ্রের চোখে এক প্রান্তিক ভূখণ্ড। স্বাধীনতার এত বছর পরও এই অঞ্চলের মানুষ বারবার শুনতে বাধ্য হয়েছেন যে তাঁরা মূল ভারতের অংশ, অথচ কাজের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ব্যবহার বারবার প্রমাণ করেছে তাদের সমস্যা জাতীয় রাজনীতির অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। মণিপুরের হিংসা সেই সত্যকেই আরও নগ্নভাবে প্রকাশ করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ রক্তক্ষয়ী আকার নিয়েছিল। সশস্ত্র আন্দোলনে নেমেছিল কুকি ও মেইতি সম্প্রদায়ের মানুষ। সাম্প্রদায়িক হিংসার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ২০০ জনের বেশি। ঘর ছাড়া হয়েছিলেন বহু মানুষ। তথাকথিত দিল্লির সংবাদমাধ্যম একপ্রকার অবহেলা করেছিল মণিপুরের ভয়ানক অবস্থাকে।একইভাবে এড়িয়ে গেছিল কেন্দ্রীয় মহলও। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির নেতা এন বিরেন সিং –এর উপর চাপ সৃষ্টি করা হলেও তেমন হিতে আসেনি রাজ্যের মানুষের।
বর্তমানে মণিপুরের পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা শান্ত, তখনই কেন্দ্রের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মণিপুর সফরে যাচ্ছেন এবং সঙ্গে আনছেন কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্যাকেজ। উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু প্রশ্ন হল, যে ক্ষত রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে দিচ্ছে না, সেখানে কেবল সড়ক, সেতু বা কারখানা গড়ে দিলেই কি মানুষের আস্থা ফিরবে? যারা গত দুই বছর ধরে ত্রিপল ঢাকা শিবিরে দিন কাটিয়েছে, যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে, তাদের মনে কি এই সফর সত্যিকারের সান্ত্বনা জাগাবে?
দিল্লির রাজনৈতিক অভ্যাস বরাবরই উত্তর-পূর্বকে অবহেলা করা। আসাম আন্দোলন থেকে নাগাল্যান্ডের বিদ্রোহ, ত্রিপুরার জনসংখ্যা পরিবর্তন থেকে মণিপুরের সাম্প্রতিক হিংসা প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, কেন্দ্রের মনোযোগ আসে দেরিতে, আর তখন অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। কেন্দ্রের এই দীর্ঘস্থায়ী উদাসীনতা উত্তর-পূর্বের মানুষের মনে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হওয়ার বোধ তৈরি করেছে দশক পর দশক ধরে।
