ওঙ্কার ডেস্ক: সাংবাদিক বৈঠকের মঞ্চে ম্যাচের সেরা পুরস্কার হাতে নিয়ে এলেন মোহাম্মদ সিরাজ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক শুভমন গিল। প্রশ্ন-উত্তরের মাঝেই হঠাৎ ডান পকেট থেকে ফোন বের করলেন সিরাজ। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ঝলসে উঠল। দেখা গেল, ফোনের ওয়ালপেপারে এক বিশেষ ছবি ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, ছবির ঠিক উপরেই লেখা ‘বিলিভ’।
এই প্রসঙ্গে সিরাজ বলেন, “এই ছবিটা ম্যাচের আগে ফোনের ওয়ালপেপার করে রেখেছিলাম। বিশ্বাস ছিল, আজ কিছু করে দেখাতে পারব। সাধারণত ম্যাচ থাকলে সকাল ৮টায় উঠি। আজ উত্তেজনায় ভোর ৬টায় উঠে গিয়েছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে গুগ্লে গিয়ে রোনাল্ডোর এই ছবিটা খুঁজে বের করলাম। ওটাই তখনকার মুহূর্তে দরকার ছিল আমার জন্য”। রোনাল্ডোর দীর্ঘদিনের ভক্ত সিরাজ। তাঁর সেলিব্রেশনেও থাকে রোনাল্ডোর সেই বিখ্যাত ‘সি-ই-ই-উ এর ছোঁয়া। সোমবারের ম্যাচেও উইকেট নেওয়ার পরে সেই চেনা উদযাপন করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সিরাজ জানালেন, রোনাল্ডোর জেদ, আত্মবিশ্বাস আর হার না মানা মনোভাবই তাঁকে অনুপ্রেরণা দেয়। তবে ম্যাচের পর যখন আবেগে ভাসার কথা ছিল, তখন কিছুটা ‘ধাক্কা’ খেয়েছিলেন হায়দরাবাদ এক্সপ্রেস! নিজেই হেসে বললেন, “ডিকে ভাই (দীনেশ কার্তিক) একেবারে হুট করে ইংরেজিতে প্রশ্ন করতে শুরু করল। তখনই সব আবেগ হাওয়া হয়ে গেল”। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে সিরাজের চোখের কোণ ভিজে।
জসপ্রীত বুমরাহ শরীরচর্চার ভারসাম্য রাখতে গোটা সিরিজে খেলেছেন মাত্র তিনটি টেস্ট। সেখানে সিরাজ ছিলেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। টানা ১৮৫.৩ ওভার বল করে ২৩টি উইকেট তুলে নিয়েছেন, যা এই সিরিজে সর্বোচ্চ। কিন্তু সিরাজের গলায় ধরা পড়ল না কোনও ক্লান্তির সুর। বরং দৃপ্ত কণ্ঠে বললেন, “আমি নিজের জন্য বল করি না, দেশের জন্য বল করি। কত গুলো ওভার খেলেছি, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। শরীর ঠিক আছে, সেটাই বড় কথা।”
নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা বলতে গিয়ে সিরাজ আরও বলেন, “আমি সব সময় বিশ্বাস করি, যে কোনও পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারি। আজও সেটাই ভাবছিলাম। শুধু ঠিক জায়গায় বল করে যেতে চেয়েছি তাতে রান হোক বা উইকেট আসুক, আমি আমার কাজটা করে গেছি”। সিরিজ জেতার উত্তেজনার মধ্যেও সিরাজের মুখে শোনা গেল দায়িত্বের সুর, দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, আর নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার এক অদম্য তাগিদ।
