অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: আর মাত্র কয়েকটা মাস। তারপর আগামী বছরই উদ্বোধন হবে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন, মুম্বই-আমেদাবাদ হাইস্পিড রেল প্রকল্প। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে যোগ দিয়ে এমনটাই ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। যদিও নির্দিষ্ট তারিখ বা দিনক্ষণ সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। তবে আগামী বছরই যে এই বহু অপেক্ষাকৃত প্রজেক্ট সম্পূর্ণ হবে তা নিয়ে আশাবাদী মন্ত্রী।
সাক্ষাৎকারে প্রকল্পে দেরির কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বৈষ্ণব। সম্প্রতি জাপানের প্রাক্তন বিচারমন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং প্রকল্পে লাগাতার দেরির অভিযোগ তুলেছিলেন। যদিও সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র।
এই প্রসঙ্গ তুলেই বৈষ্ণব বলেন, জাপানের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। বুলেট ট্রেন প্রকল্পটি জাপানের ভূমি, পরিকাঠামো ও পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনে। দেড় বছর আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নাকানো হিরোমাসা প্রকল্প পরিদর্শনে এসে কাজের গুণমান এবং গতি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
রেলমন্ত্রীর দাবি, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত জাপানি ইঞ্জিনিয়াররা বলেছেন, এই প্রকল্পে ব্যবহৃত কিছু প্রযুক্তি তাঁরা জাপানের পরবর্তী বুলেট ট্রেন প্রকল্পেও নিয়ে যাবেন। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল হাইস্পিড রেল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান, যিনি সম্প্রতি ভারতে একটি সম্মেলনে এসেছিলেন, তিনিও বলেছেন, এত কম সময়ে জাপানও এই কাজ শেষ করতে পারত না।
দেরি হওয়ার কারণ উল্লেখ করে বৈষ্ণব জানান, ২০১৭ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলেও প্রকল্পের ডিজাইন অত্যন্ত জটিল ছিল, যাতে দেড় থেকে দু’বছর সময় লেগে যায়। এরপর করোনা অতিমারির জেরে কাজ থমকে যায়। পরে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে রাজ্যে বুলেট ট্রেনের প্রকল্পে বাধা দেন বলেও অভিযোগ তোলেন রেলমন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও জানান, পুরো প্রকল্পের অনুমতি না পেলে কাজ শুরু করতে রাজি ছিল না জাপান। বৈষ্ণবের স্বীকারোক্তি, “এর দায় কোনও একটি দলের উপর চাপানো যায় না। সামগ্রিকভাবে ভারতই এর জন্য দায়ী ছিল।”