নিজস্ব প্রতিনিধি: বাবরি মসজিদ শিল্যান্যাস নিয়ে এবার ‘হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করে বেনজির কটাক্ষ ছুঁড়ছেন খোদ পশ্চিমবঙ্গ ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহম্মদ ইয়াহিয়া। হুমায়ুন কবীরের মসজিদ নির্মাণের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন তৃণমূলের সদ্য সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তিনি সমর্থন যেমন পেয়েছেন, তেমনি জুটেছে কড়া সমালোচনাও। বাবরি মসজিদের শিলান্যাসে কার্যত মানুষের ঢল নেমেছিল। তার সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। ইতিমধ্যেই দানপত্র উপছে পড়েছে। তবে মসজিদ তৈরির যুক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
মুসলিমদের প্রকৃত উন্নয়ন করতে বাবরি মসজিদ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল প্রয়োজন বলে হুমায়ুনকে দুষেছেন নওশাদ সিদ্দিকী। এবার একে বারে খোদ ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ ইয়াহিয়াও হুমায়ুন কবীরের মসজিদ তৈরির অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। তার দাবি, হুমায়ুন কবীর নিজে মুসলিম হয়েও নামাজ পড়েন না। মসজিদ করার কোন অধিকার নেই ‘হুমায়ুন কবীরের ।
পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, কার্যত রাজনৈতিক স্বার্থে খুব সচেতন ভাবেই বাবরি শব্দটি ব্যবহার করছেন হুমায়ুন। বাংলার মুসলিমদের আবেগ নিয়ে খেলছেন। ঠিক এরপরেই কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহম্মদ ইয়াহিয়া। তাঁর দাবি, তাঁর হাতে যদি ক্ষমতা থাকত তাহলে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হতেই দিতেন না তিনি। ভেঙে ফেলতেন বিতর্কিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস। কার্যত হুশিয়ারির সুরে এমনটাই বলেন ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। কারণ, তাঁর দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে বাবরি মসজিদ তৈরি করছেন হুমায়ুন কবীর। যা মুসলিমদের প্রকৃত উন্নয়ন করবে না। যদিও হুমায়ুন কবীর ‘বাবরি মদজিদ নির্মাণ করতে এখনও অনড়।
এদিকে আগামী ২২ ডিসেম্বরই নতুন রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আনবেন বলেই জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। ইতিমধ্যেই তৃণমূল তাঁকে দল বিরোধী কাজের জন্য সাসপেন্ড করেছে। যদিও হুমায়ুন কবীর দাবি, নতুন দল করে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেবেন। জোড়াফুল শিবিরের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন দল তৈরির পিছনেও ষড়যন্ত্র দেখছেন মহম্মদ ইয়াহিয়া। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির মদতে নতুন দল করছে ভরতপুরের বিধায়ক। রাজ্যে মুসলিম ভোট কেটে বিজেপিকেই সুবিধা করাই তাঁর লক্ষ্য। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের সম্পর্ক খুব ভালো। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও ভরতপুরের বিধায়কের সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলায় মুসলিমদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক দল প্রয়োজন বলে হুমায়ুন কবীরের দাবিকেও নাসাৎ করে দিয়েছেন ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তার পাল্টা দাবি, তৃণমূলের আমলে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এখন দেখার ছাব্বিশে সমীকরণ বদলে দেবার যে দাবি হুমায়ুন কবীর করছেন সেটা কতটা প্রভাব ফেলে ব্যালটে।
