নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া : নামেই ৫৬ পদ, বাস্তবে পদের সংখ্যা প্রায় আড়াইশোর বেশি, এভাবেই মাসির বাড়িতে মহানন্দে দিন কাটছেন জগন্নাথ দেবের।মায়াপুরে রাজাপুর জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে ইসকনের পঞ্চতত্ত্ব মন্দিরে রয়েছে জগন্নাথ বলদেব এবং সুভদ্রা মহারানীর জন্য অস্থায়ী গুন্ডিচা মন্দির। আর সেই মাসি বাড়িতেই সকাল বিকেল রাত্রিতে দেশি ও বিদেশী মেনু তৈরি হচ্ছে জগন্নাথ দেবের জন্য।
শত শত পদে খাওয়া-দাওয়া করে মাসির বাড়িতে মহানন্দে দিন কাটাচ্ছেন তারা। কি নেই পদে? বাঙালি ডাল,ভাত,সবজি,ভাজা,ফলমূল,পিঠেপুলি,পায়েস,মিষ্টি থেকে শুরু করে চাউমিন, পাস্তা,দইবড়া রোজ অসংখ্য মেনু তৈরি হচ্ছে জগন্নাথ দেবের জন্য। প্রতিদিন ভোর চারটে থেকে শতাধিক রান্নার লোক ও তার সহযোগী মিলে জগন্নাথের ভোগ তৈরিতে ব্যস্ত। আর সেই জগন্নাথের প্রসাদ পাচ্ছেন হাজার হাজার ভক্ত।
রথের পরদিন থেকে শুরু করে উল্টো রথ পর্যন্ত এভাবেই রকমারি পদে খাওয়া-দাওয়া করছেন জগন্নাথ,বলদেব এবং সুভদ্রা । উল্টোরথে তারা ফিরে যাবেন নিজগৃহে। তাই মাসির বাড়িতে যে কটা দিন থাকে এই কটা দিন আতিথেয়তায় বিন্দুমাত্র খামতি রাখেন না ইসকনের ভক্তরা। প্রতি বছরই এই দিনগুলোর জন্যই অপেক্ষা করে থাকে ইসকনের অসংখ্য দেশীয় বিদেশী ভক্ত।
শুধু জগন্নাথের জন্য এখানে রান্না হয় তা নয়। ইসকন ভক্তরা তাদের বাড়ি থেকে অসংখ্য পদ তৈরি করে নিয়ে আসে জগন্নাথ দেবের উদ্দেশ্যে। আর প্রতিদিন তিন বেলা করে সেই ভোগ নিবেদন করা হয়, জগন্নাথের অস্থায়ী গুণ্ডিচা মন্দিরে। জগন্নাথ দেবের প্রিয় পদ মিষ্টি ডাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমারি পিঠে পুলি পায়েস ফলমূল কাঁঠাল লুচি পনির মালপোয়া সমস্ত কিছুই জগন্নাথের ভোগে থেকে থাকে। জগন্নাথের প্রসাদ পেতে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত সমবেত হয় মায়াপুর ইসকন মন্দিরে।
