নিলয় ভট্টাচার্য, নদিয়া : নদিয়ার দুই বাসিন্দাকে এনআরসি নোটিস, তাই নিয়ে ফের জলঘোলা হতে শুরু রাজ্য রাজনীতিতে। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর অভিযোগ, “বেআইনিভাবে নোটিস জারি করা হয়েছে”। প্রতিক্রিয়া জানাতে X-এ তিনি লিখেছেন, ‘ভোটের আগে বিজেপির নতুন ফন্দি।’ নদিয়ার দুই নাগরিক এনআরসি নোটিস পেয়েছেন পুজোর পরপর। তা নিয়ে ইতিমধ্যে নবান্ন থেকে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত
প্রসঙ্গত, মাত্র ১৫ দিনের জন্য আসামে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন নদিয়ার কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের সারজো সাই শেখ এবং আশাদ আলী শেখ। ১৫ দিন কাজ করার পর ১৬ দিনের মাথায় বাড়িতে ফিরে আসেন নদীয়ার কৃষ্ণনগর দুই নম্বর ব্লকের শোনডাঙ্গা গ্রামের ওই দুই ব্যক্তি। এরপর বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে নদীয়ার বাড়িতে অসম সরকারের অসমীয়া ভাষায় লেখা চিঠি আসে। অসমীয়া ভাষায় লেখা ওই চিঠিতে কী লেখা আছে তা জানতে তাঁরা যান স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যর কাছে। প্রতিবেশীরা এই চিঠি পড়ে বুঝতে পারে এটা অসম সরকার তাদের নথি যাচাইয়ের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে। এটা জানতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই দুই ব্যক্তি ও তাদের পরিবার। কী করবে তার কুলকিনারা না পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হন দুজনেই।
এই পরিস্থিতিতে গ্রামের স্থানীয় নেতারা তাদের আশ্বস্ত করেন। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে আছেন এ কথা জানানো হয় তাঁদের। ধীরে ধীরে এই চিঠি যায় এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের বিজ্ঞান ও জৈব প্রযুক্তি দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস এর কাছে। উজ্জ্বল বিশ্বাস দুজনের ওই চিঠি সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে পাঠান। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিতে শুরু করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
এ বিষয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি বলেন, “বিজেপি জানে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তারা চির বিদায় নেবে। তাই আমাদের এ রাজ্যের মানুষকে আতঙ্কিত করতেই এই ধরনের খেলা শুরু করেছে। যাদের বাড়িতে চিঠি এসেছে তাদের আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছি। তাদের প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে বলেছি।” অন্যদিকে আসাদ আলী শেখ জানান, তারা ১৪ বা ১৫ বছর আগে আসামে গিয়েছিলেন টাইলস পাথর বসানোর কাজে। নদিয়াতে পাঁচ পুরুষ ধরে তাদের বসবাস। কাগজপত্র সমস্ত কিছুই রয়েছে। তারপরেও কেন অসম সরকার এমন চিঠি পাঠাল তা ভেবেই কুলকিনারা পাচ্ছেন না তাঁরা।
