নিলয় ভট্টাচার্য, নদিয়া : ব্রিজ তৈরীর নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জাতীয় সড়ক অবরোধ করলো শান্তিপুর নাগরিক মঞ্চের। বৃহস্পতিবার নদিয়ার শান্তিপুরের বাবলা গোবিন্দপুর ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন নাগরিক মঞ্চের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, শান্তিপুর কালনার ব্রিজ তৈরির জন্য প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। অথচ জমি অধিগ্রহণের পর প্রায় একশোর বেশি চাষি জমি বিক্রয়ের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত। একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তিরা অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণ করে তাঁদের ওই টাকা আত্মসাৎ করেছে। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিজ তৈরীর দুর্নীতির সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, না হলে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে শান্তিপুর নাগরিক মঞ্চ। নাগরিক মঞ্চের অন্যতম দীনেশ রায় বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত না ডিএম আসছেন এই অবরোধ চলবে।”
এই অবরোধের কারণ প্রসঙ্গে দীনেশবাবু জানিয়েছেন, “দীর্ঘদিন ধরে নৃসিংহপুরের ব্রিজ তৈরি জন্য যে জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল সেই সব কৃষি জমিতে টাকার বিনিময়ে অসৎ উপায়ে ঘরবাড়ি হয়েছে। অথচ যে সমস্ত চাষি ব্রিজের জন্য জমি দিয়েছিলেন তাঁরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাননি। ব্রিজের কাজও শুরু হয়নি। শুধু প্রতিশ্রুতি চলছে। এদিকে চাষিদের প্রাপ্য টাকা নিয়ে দালালরা চম্পট দিয়েছে। অবিলম্বে সেই দালালদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে এবং জমির মালিকদের টাকা দিতে হবে।” আন্দোলনকারীদের সাফ কথা, “যতক্ষণ না এর বিহিত হচ্ছে এই আন্দোলন চলতে থাকবে।”
শান্তিপুর নাগরিক কঞ্চের আরেক সদস্য নৃপেন মন্ডল বলেছেন, “কেন্দ্র যা টাকা দিয়েছে তাতে জমি অধিগ্রহণ করে ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করা যায়।” তাঁর প্রশ্ন, “আমরা জানতে চাইছি, ব্রিজের কাজ এত দেরী হচ্ছে কেন ? যে সমস্ত চাষী জমি দিয়েছে তারা কেন তাঁদের প্রাপ্য টকা পেলেন না ?”

কয়েক ঘন্টা রাস্তা অবরোধ থাকার কারণে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ঘটনাস্তলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। যদিও বিক্ষোভকারীদের সাফ কথা জেলাশাসক যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা বিক্ষোভে অনড় থাকবেন।
