নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া : তৃণমূল বিধায়ক খুনে অভিযুক্তকেই তৃণমূলে যোগদান করালো তৃণমূল নেতৃত্ব। নদিয়ার হাঁসখালি ব্লকের বিজেপির দাপুটে নেতা নির্মল ঘোষ। তিনি তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের হাত ধরে গেরুয়া ছেড়ে যোগ দিলো ঘাসফুলে। তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী ও তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেওয়া হয় নির্মলবাবুর হাতে।
অন্যদিকে বিজেপি কর্মী হারিয়ে আস্তে আস্তে কোনঠাসা হয়ে যাবে এমনটাই মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। জানা গেছে, তৃণমূলে এখন যাকে নিয়ে এত সমারোহ সেই নির্মল বাবুই হলেন কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের হত্যা মামলায় অভিযুক্ত। এই অভিযোগ ওঠার কারণে নির্মল বাবু গ্রেফতার হয়েছিলেন। ৬ বছর জেল হেফাজতে ছিলেন তিনি। কিন্তু তৃণমূল অতীত ভুলে সেই নির্মল বাবুকে দলে যোগদান করাল শুধুমাত্র কৃষ্ণগঞ্জ অঞ্চলে নিজেদের ভালো ফল করার প্রত্যাশায়। নির্মলবাবু তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ফলে দলের অন্দরে কথা উঠছে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, যাঁর বিরুদ্ধে দলের নেতা খুনের অভিযোগ তাঁকেই কেন দলে নিল তৃণমূল ! এই নিয়ে ঝড় উঠতে শুরু করেছে। নির্মলবাবুর তৃণমূলে যোগ দেওয়াকে ভালো চোখে নিচ্ছেন না অনেকেই।
বিজেপির নেতা তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে তৃণমূলের কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক যুব সভাপতি শুভজিৎ সরকার বলেন, “দল যেটা ভালো বুঝেছে সেটা করেছে। আমাদের দল জাতীয় দল তারা অনেক চিন্তা ভাবনা করে রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করে সে দলে ঢোকার উপযুক্ত কিনা তারপরেই দল সিদ্ধান্ত নিয়ে যোগদান করায়। তিনি বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নেই আমরা তা মেনে চলি ।
এ ব্যাপারে বিজেপি নেতা অমিত প্রামাণিক বলেন, “যিনি তৃণমূল দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে জেল খেটে ফিরলেন তাকেই নাকি তৃণমূলে যোগদান করালেন। যে তৃণমূল অভিযোগ করেন, বিজেপি মানে ওয়াশিং মেশিন। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গেলেই সমস্ত পাপ ধুয়ে যায় তাদের জেনে রাখা উচিত তাদের বিধায়ক খুনের আসামিকে দলীয় পতাকা নিয়ে যোগদান করাচ্ছেন। তৃণমূল রাজ্যে যে দুর্বৃত্তদের স্বর্গরাজ্যের পরিণত হয়েছে এটার দ্বারা প্রমাণিত।“ পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “নির্মল বাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তৃণমূলে যোগ দিলেও বিজেপির একজন কর্মীও কিন্তু যোগ দেয় নি।” অন্যদিকে নির্মলবাবুকে তৃণমূলে যোগ করানো নিয়ে জেলা তৃণমূলের একাংশের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্মলবাবুকে তৃণমূলে নেওয়া দলের পক্ষে কতটা সুবিধা হল তা ভবিষ্যৎ বলবে।